ক্ষমতায় এসেই মানবিক সিদ্ধান্ত, ১৪ লক্ষ কৃষকের ঋণ মুকুব করল তামিলনাডু সরকার

Published:

C. Joseph Vijay

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা বিজয় (C. Joseph Vijay)। এবার রাজ্যটির প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের (Farmer) জন্য বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে আসলেন তিনি। হ্যাঁ, রাজ্যের সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ফসলের ঋণ সম্পূর্ণ মুকুব করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে বড় অংকের কৃষি ঋণ নেওয়া কৃষকদের জন্য ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে হওয়া এক উচ্চপর্যয়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই মেগা কৃষি প্যাকেজের ছাড়পত্র দিয়েছেন। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের আনুমানিক ১৪ লক্ষ ২২ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলেই অনুমান করা হচ্ছে। তবে এর জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ২০৪৪.৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলেই দাবি করছে বেশ কিছু রিপোর্ট।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ

এই ঐতিহাসিক কৃষি ঋণ মুকুবের বিষয়ে বিশিষ্ট টিভিকে নেতা সিটিআর নির্মলকুমার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট বলেছেন যে, আমাদের রাজ্যে মোট ১৬ লক্ষ ৯২ হাজার কৃষক সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নিয়েছিলেন। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে আজ প্রথম দফায় ১৪ লক্ষ ২২ হাজার কৃষকের ঋণ মুকুবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে ফাঁকা মাঠে গোল দেবে বিজেপি? কেউ হতে চাইছে না তৃণমূলের প্রার্থী!

তবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই ঋণ মুকুবের পরিধি কৃষকের ঋণের অংক এবং প্রকারভেদের উপরে ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই সুবিধা কেবলমাত্র সেই সমস্ত কৃষকরা পাবে, যারা ১ মে ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আর সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৫০ হাজার টাকা নিচে বকেয়া ঋণ রয়েছে যাদের, সেই সমস্ত চাষীদের সম্পূর্ণ ঋণ মুকুব করা হবে। তবে ৫০ হাজার টাকার উপরে ঋণ নিলে রয়েছে ছাড়ের কাঠামো। যেমন—

  • ৫০,০০০ টাকা অবধি ঋণ নেওয়া প্রান্তিক চাষীদের ক্ষেত্রে ১০০% ঋণ মুকুব করা হবে।
  • ৫০,০০০ টাকার বেশি ঋণ নেওয়া ক্ষুদ্র চাষীদের ক্ষেত্রে ৫০% ঋণ মুকুব করা হবে।
  • ৫০,০০১ টাকা থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া চাষীদের ৪০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হবে।
  • ৬০,০০১ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া চাষিদের ৩০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হবে।
  • ৭০,০০১ টাকা থেকে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া চাষিদের ২০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হবে।
  • ৮০,০০১ টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া চাষিদের ১০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হবে এবং
  • ১ লক্ষ টাকার উপরে যারা ঋণ নিয়েছেন তাদেরকে ৫০০০ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।