অনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বারণ সত্ত্বেও দিল্লির (Delhi) যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) প্রতিবাদ (Protest) জানাতে গিয়ে গ্রেফতার (Arrest) ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। বুধবার, ১৪ অক্টোবর তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যন্তর মন্তরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই এলাকায় প্রবেশ করা তাঁদের উচিত হয়নি। পাশাপাশি আগের দেওয়া শান্তি বজায় রাখার মুচলেকাও ভেঙেছেন তাঁরা।
যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে কী করেছিলেন দুই নেতা?
মঙ্গলবার সকালে সৌরভ ও আশুতোষ-সহ সিজেপির মোট ১৪ জন সদস্য যন্তর মন্তরে পৌঁছন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগ, তাঁরা ব্যারিকেড টপকে এবং একটি বন্ধ লোহার গেট পেরিয়ে প্রতিবাদস্থলে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা জাতীয় পতাকা ওড়ান। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও দেন তাঁরা। এরপরই তাঁদের আটক করা হয়।
এই ঘটনায় পুলিশের তরফে একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অনুমোদন ছাড়া অন্যের এলাকায় প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। পুলিশের বক্তব্য, এর আগেও আটক হয়েছিলেন তাঁরা, তখন সৌরভ ও আশুতোষ এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন তাঁরা সেই মুচলেকা ভঙ্গ করলেন। তাঁরা যাতে ফের একই ধরনের আইনভঙ্গ না করেন সেই উদ্দেশ্যে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, সিজেপির আর এক নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ছয় মাস শান্তি বজায় রাখা ও ভালো আচরণের শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুই নেতার হেফাজতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি এই গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার মাধ্যম হিসেবে মনে করছেন। ঘটনাটি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন দীপকে। তাঁদের গ্রেফতার করে আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও দলের তরফে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ১১ অক্টোবরের নির্দেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও সভার বিকল্প স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ করছে। সেই আন্দোলনের মধ্যেই যন্তর মন্তরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সিজেপির দুই নেতার জেল হেফাজতের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।










