বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা। ইরান যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। এসব কারণেই রান্নার গ্যাস নিয়ে গোটা দেশজুড়ে তৈরি হয় ব্যাপক সংকট! এর ফলে LPG-র বিকল্প হিসেবে অনেকেই কাঠের উনুন, ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহারে জোর দিয়েছেন। আর এইসব কারণেই গত মার্চ মাসে গোটা দেশ জুড়ে LPG বা রান্নার গ্যাসের ব্যবহার কমেছে 13 শতাংশ (Cooking Gas Usage Drop)। বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস উভয়েরই ব্যবহার কমেছে ভারতে।
রান্নার গ্যাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দেশবাসী?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের মাঝে গত মার্চ মাসে বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থালী উভয় ক্ষেত্রেই LPG বা রান্নার গ্যাসের ব্যবহারের পরিমাণ ছিল 23.79 লক্ষ টন। যেই পরিমাণটা গত বছরের মার্চ মাসে 27.99 লক্ষ টন ছিল। এর অর্থ, এ বছরের মার্চ মাসে গোটা দেশে রান্নার গ্যাসের ব্যবহার কমেছে 12.80 শতাংশ। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, ভারত LPG চাহিদার প্রায় 60 শতাংশ আমদানি করে থাকে। যার বেশিরভাগটাই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চরম সংঘাতের কারণে এই বাণিজ্যিক পথ একেবারে অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মাঝে আমেরিকার কথায় ওমানের দিকের হরমুজ প্রণালী খুললেও পুনরায় সেই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। আর এই আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধ থাকায় গত মার্চ মাসে ঘরোয়া রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা দেশে কমে যায় রান্নার গ্যাসের ব্যবহার। তাছাড়াও তেল মন্ত্রণালয়ের পেট্রোলিয়াম পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ সেল এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে বিক্রি হওয়া গৃহস্থালির পাইকারি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের সংখ্যা অনেকটাই কমেছিল। অন্যদিকে বাণিজ্যিক পাইকারি গ্যাস সিলিন্ডারের পরিমাণ কমে গিয়েছিল 48 শতাংশ পর্যন্ত।
অবশ্যই পড়ুন: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুটবল ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা! মাঠে নামবেন মেসিও?
তাছাড়াও গত মার্চ মাসে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় দেশের বহু মানুষ মাটির উনুন থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক হিটার এমনকি ইন্ডাকশন ওভেনের রান্নার বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কয়েকটি সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে গ্যাসের খরচ কমাতে অনেকেই এক বেলা রান্না করে খেয়েছেন। বাকি সময় বাজার থেকে কেনা খাবার খেয়ে দিন চালিয়েছেন তারা। আর এসব কারণেই মার্চ মাসে গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।










