স্কুলের পাশে আর বিক্রি করা যাবে না কোনও মুখরোচক খাবার, বিরাট সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সবার আগে। ঠিক সে কারণেই এবার স্কুলের ক্যান্টিনে এবং গেটের 50 মিটারের মধ্যে কোনও রকম জাঙ্ক ফুড (Junk Food) বা অতি মুখরোচক খাবার বিক্রি করা যাবে না। সেই মর্মে, নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট (High Court)। বিচারপতি অনুপ কুমার ধন্দের বেঞ্চ এক স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় রায় দিতে গিয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাচ্চাদের স্কুলের ক্যান্টিন ও স্কুলের গেট থেকে 50 মিটারের মধ্যে অতিরিক্ত চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার বিক্রি করা যাবে না। এই নির্দেশ যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলিকে।

স্কুলের পাশে থাকবে না জাঙ্ক ফুডের দোকান

সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্ট একেবারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ দিয়েছে, স্কুলের ক্যান্টিন এবং স্কুল গেটের 50 মিটারের মধ্যে কার্বনেটেড পানীয়, চিপস, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত বেকারি পণ্য, উচ্চ চর্বি বা অতিরিক্ত লবণ যুক্ত খাবার এমনকি অন্যান্য জাঙ্ক ফুড বা মুখরোচক খাদ্য পণ্য বিক্রি করা চলবে না। আর এই গোটা বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেক জেলা শাসক ও ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসে মাসে বিভিন্ন স্কুল এবং স্কুল চত্বর পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন আদালত উল্লেখ করে, 2020 সালের নিরাপদ এবং সুষম খাদ্য সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও ছয় মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও দেখা গিয়েছে তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। বলা ভাল, এই নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবের কথাও উল্লেখ করে আদালত। আর তারপরেই শিশুদের স্থূলতা এবং প্রতিদিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে নানান রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে এই বিধিমালা কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেয় হাইকোর্ট।

 

আরও পড়ুন: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল, দুর্যোগে আটকে অভিনেতা খরাজ ও স্ত্রী, এখন কী অবস্থায় আছেন?

হাইকোর্ট আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক স্কুল কর্তৃপক্ষকে খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও বলা হয়েছে, আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে স্কুলের ক্যান্টিনগুলির প্রত্যেকটি খাবারে উপস্থিত ক্যালরির পরিমাণ থেকে শুরু করে পুষ্টিগুণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য মেনু বোর্ডে উল্লেখ করতে হবে। মধ্যাহ্নভোজ এবং অন্যান্য পুষ্টি কর্মসূচিতে যাতে সমস্ত নিয়ম মেনে চলা হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। সব মিলিয়ে বলাই যায়, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে এবার থেকে কোনও বেনিয়ম চলবে না রাজস্থানে।