প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাস্তার সৌন্দর্য বাড়াতে লাগানো হয়েছিল নীল রঙের প্লাস্টিক (Blue Road), কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই বেহাল অবস্থা পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) রায়না ২ ব্লকের উচালন অঞ্চলে। বৃষ্টিতে আসমানি নীল রং ফিকে তো হয়ে গিয়েছে তার উপর রাস্তার বেশ কিছু জায়গা ভেঙে গিয়েছে, রীতিমত কঙ্কালসার অবস্থা। রাস্তার ধার ভেঙে গিয়েছে। আর এই নিয়ে এবার পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন স্থানীয়রা।
দেশের মধ্যে প্রথম নীল রাস্তা
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে প্রথম পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ ব্লকের উচালন পঞ্চায়েতের একলক্ষী এলাকায় তৈরি হয়েছিল নীল রাস্তা। সেই সময় রাস্তার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। একলক্ষী টোল প্লাজা থেকে রাউতারা ব্রিজ পর্যন্ত ৩২০ মিটার দীর্ঘ ওই নীল রাস্তাটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ২২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। যেহেতু দেশের মধ্যে প্রথম এই রাস্তা তৈরি হয়েছিল তাই স্বাভাবিকভাবে উচালন গ্রামের আকর্ষণীয়তা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
বেহাল অবস্থা নীল রাস্তা
রাস্তা নির্মাণের সময় স্থানীয়দের জানানো হয়েছিল যে, অন্যান্য রাস্তার থেকে এই নীল রাস্তার গুরুত্ব আলাদা। এই নীল রাস্তা নাকি দ্বিগুণ টেকসই হবে। এছাড়াও নীল রাস্তা তৈরি হবার ফলে পিচ কম গরম হবে, পিচ গলবেও কম। সঙ্গে দূষণও কম হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এবার মিথ্যে হয়ে গেল। জানা গিয়েছে, রাস্তার বেশ কয়েক জায়গায় খানাখন্দ ভরে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের কয়েকজনের সাফাই, রাস্তা খারাপ হয়ে যায়নি। এই রাস্তার উপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ রয়েছে। তার মধ্যে বর্ষা হয়েছে। তাই রাস্তা মেরামতের কাজও করা হবে।
আরও পড়ুন: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল, দুর্যোগে আটকে অভিনেতা খরাজ ও স্ত্রী, এখন কী অবস্থায় আছেন?
প্রসঙ্গত এই ধরনের রাস্তা বানানোর সময় পঞ্চায়েত এর তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, পিচের রাস্তা তৈরির পর তা রক্ষা করার জন্য রাস্তার উপরে দেওয়া হয়েছে প্লাস্টিকের প্রলেপ। এরগিল্ড এক দিকে এই প্রলেপ যেমন পিচকে বৃষ্টির জল থেকে রক্ষা করবে অন্য দিকে, রঙিন রাস্তা শোভা বাড়বে। কিন্তু কোনো কাজেই এল না রাস্তা, তাই এবার এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছে বাসিন্দারা।










