প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে কাটল দুশ্চিন্তার অন্ধকার, দীর্ঘ ২৮ দিন পর অবশেষে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhrapradesh) ৭ মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা হল দিঘায় (Digha)। গতকাল, বুধবার, দীঘা মোহনা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে উদ্ধার হয় তাঁদের বিকল ট্রলার (Digha trawler rescue)। ৬ জনের শরীর সুস্থ থাকলেও তাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা একটু খারাপ থাকায় তাঁকে আপাতত দীঘা রাজ্য সদন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। গতকালই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসপি ডিএনটি ডক্টর মোহিত মোল্লা।
২৮ দিন পর উদ্ধার ৭ মৎস্যজীবীকে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার সকাল ৭ টা নাগাদ দিঘা মোহনা থেকে মাছ ধরতে যাওয়া ‘কালী গঙ্গা’ ট্রলারের মৎস্যজীবীরা মাঝ সমুদ্রে হঠাৎ হলুদ রঙের একটি ট্রলার ভাসতে দেখেছিল। এরপর কাছে যেতেই তাঁরা জানতে পারেন ট্রলারটি অন্ধ্রপ্রদেশের, নাম ‘শ্রী মুথিয়ালাম্মা’। সেটির ইঞ্জিন খারাপ হয়ে যাওয়ায় ট্রলারটি বিকল হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে দিঘা মোহনায় ফোন করে জানান ‘কালী গঙ্গা’ ট্রলারের মৎস্যজীবীরা। খবর দেওয়া হয় মৎস্য দপ্তরে। এরপরই নিয়ে আসা হয়েছিল দীঘা মোহনায়। ইতিমধ্যে ৬ মৎস্যজীবী সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে একজনের অবস্থা সামান্য খারাপ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
কী বলছেন কাঁথি মৎস্যদপ্তরের অধিকর্তা?
জানা গিয়ে ট্রলার আটকে থাকায় ওই নিখোঁজ মৎস্যজীবীরা নাকি তিন দিন ধরে বরফের জল খেয়ে বেঁচে ছিলেন, পড়ে তাঁদের উদ্ধার করা হলে প্রথমেই মৎস্যজীবীরা বিস্কুট জল খাইয়েছিলেন তাঁদের। বাড়ির পরিজনদের সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁদের। কাঁথি মৎস্যদপ্তরের সহ মৎস্য অধিকর্তা সুমন সাহা বলেন, ‘খারাপ ট্রলারটির কথা জানার পরে উদ্ধারের জন্যে খবর দেওয়া হয় কোস্টগার্ড ও কোস্টাল থানায়। উদ্ধার হওয়া সাত মৎস্যজীবী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।” একই কথা শোনা গিয়েছে দিঘা ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রণব করের কথায়।
আরও পড়ুন: নবীনবরণে ‘চটুল’ গানে নাচ ছাত্রীদের! মাঝপথেই বন্ধ NIT দুর্গাপুরের অনুষ্ঠান
শেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, আপাতত দিঘা মোহনায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মৎস্যজীবীদের ট্রলারটি নোঙর করা হয়েছে। এবং দ্রুততার সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে স্থানীয় প্রশাসন, যাতে তাঁদের শরীর স্বাস্থ্য দ্রুত ঠিক হয়ে গেলে নিজ নিজ পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। আপাতত এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র দিঘা উপকূলজুড়ে স্বস্তির হাওয়া বইছে।










