প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নেপালে (Nepal) শুটিং করতে গিয়ে দুর্যোগের ঘেরাটোপে আটকে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee), সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, নেপালের চিন সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়া জেলায় হড়পা বানের দাপটে (Nepal Flood) ধূলিসাৎ বিস্তীর্ণ এলাকা। আর তার মাঝেই আটকে রয়েছে তিনি ও গোটা টিম। এমনকি অভিনেতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিল ছেলে তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়।
শুটিং করতে গিয়ে আটকে অভিনেতা
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়ের নতুন বাংলা ছবি ‘শিকারি’-র শ্যুটিং চলছিল নেপালের রাসুয়া জেলার দুর্গম এলাকায়। আচমকা প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছিল। এর পরই হড়পা বান ও ধসের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় রাস্তা ও সেতুর একাধিক অংশ। ফলে একদিকে যেমন শুটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে কলকাতাতেও ফিরতে পারছেন না তিনি। এদিকে সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়। তবে শেষ আপডেট বলছে দুজনেই আপাতত সুস্থ এবং সুরক্ষিত আছে।
কী বলছে পরিবার?
জানা গিয়েছে, প্রথমদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা আচমকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়কে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে পরে খরাজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তমোঘ্ন (বিহু) মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, “বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে, মা-ও সঙ্গে রয়েছেন। বিপর্যয় যেখানে ঘটেছে, সেখান থেকে অনেকটাই দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন তাঁরা। তবে দুর্যোগের কারণে যানবাহন, বিমান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, সেই জন্যই ফিরতে খানিক দেরি হচ্ছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তাঁরা দ্রুত কলকাতায় ফিরে আসবেন।” এদিকে একই ছবির শুটিংয়ে গিয়েছিলেন রজতাভ দত্ত-ও। তবে তাঁর কাজ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিরে এসেছিলেন।
আরও পড়ুন: ২৮ দিন পর মিলল খোঁজ, দিঘায় উদ্ধার অন্ধ্রপ্রদেশের ৭ মৎস্যজীবী
উল্লেখ্য, নেপালের এই আচমকা হড়পা বানের ঘটনায় বিধ্বস্ত অবস্থা এলাকায়। রীতিমত আতঙ্কের প্রহর গুনছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই মৃত বেড়ে ১৭৫। এখনও নিখোঁজ প্রায় ১৫০০। নেপাল এবং তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ ৮০০ বিদেশি নাগরিক। বর্তমানে উদ্ধারকার্য জোরকদমে চলছে। কিন্তু সেই কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।










