বাস করে না কোনও মুসলিম, অথচ ৬০টি গ্রামের হিন্দুরাই পালন করছে মহরম, জানেন কোথায়?

Published:

Muharram

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মুসলিমদের উৎসব হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে মহরম (Muharram) পালন করে আসছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। না, এই ঘটনা অন্য কোনও দেশের নয়। বরং, বিহারের ফতেহপুর (Fatehpur) ব্লকে এমনই এক দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা যায়, যেখানে গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনের চিত্র উঠে আসে মহরমের বিশেষ দিনটিতে। এই ব্লকের আনুমানিক ৬০টি গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলি বহু প্রজন্ম ধরেই ভক্তি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে মহরম উদযাপন করছে। এমনকি গ্রামগুলির মধ্যে এমন অনেক গ্রাম রয়েছে যেখানে একটিও মুসলিম পরিবার বাস করে না।

হিন্দুরাই পালন করছে মহরম

আসলে বিহারের এই গ্রামগুলিতে হিন্দুরাই তাজিয়ার মিছিলের মাধ্যমে মহরম উদযাপন করে। বিশেষ করে জেহলিবিঘা, মাতাসো, কোডিয়া, ভগবানপুর, খাজুরি, রাজাবিঘা, পটিয়া, পাকরিয়া, জাশপুর ইত্যাদি গ্রামগুলিতে হিন্দু পরিবারগুলি ঐতিহ্যগত ভাবে মুসলিমদের উৎসব হওয়া সত্ত্বেও মহরম উদযাপন করে। প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করেই গ্রামবাসীরা উৎসাহের সঙ্গে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এমনকি তাঁদের পূর্ব পুরুষদের নির্মিত ইমামবাড়াগুলি এখনও পর্যন্ত এই গ্রামগুলিতেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর মহরমের মাসে এখানে ফাতিহা ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উদযাপিত হয়।

সূত্রের খবর, এ বছর এই ব্লকের ১০৩টি সমিতি মহরমের জন্য লাইসেন্সের আবেদন করেছিল। আর গত বছর সেই সংখ্যা ছিল ১০৬। এমনকি জানলে অবাক হবেন, এই ১০৬টি লাইসেন্সের মধ্যে হিন্দু পরিবার ৬০টি। এই ব্লকটিতে সকল সম্প্রদায়ের যৌথ অংশগ্রহণের দৃশ্য চোখে পড়ে গোটা দেশবাসীর। যেখানে অন্যান্য রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, ভেদাভেদ, দাঙ্গা হাঙ্গামা চলছে, সেখানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিহারের এই গ্রাম্য পরিবারগুলি। এখানে গেলে বোঝাই যাবে না যে, হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে কোনওরকম ভেদাভেদ আছে কিনা।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকায় ছাতা কিনে ট্রাফিক পুলিশদের দান, মানবিক উদ্যোগ দুর্গাপুরের মহিলার

এ বিষয়ে পটিয়া গ্রামের বাসিন্দা নরেশ পন্ডিত জানান, যদিও তাঁর গ্রামে কোনও মুসলিম পরিবার বসবাস করেন না, কিন্তু বংশগত ঐতিহ্যের কারণেই তাঁর পরিবার প্রতি বছর মহরম উদযাপন করেন এবং মিছিলে সামিল হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক বাসিন্দার কথায়, এই অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য গোটা গ্রাম একসঙ্গে কাজ করে। তাজিয়া নির্মাণ থেকে শুরু করে শোভাযাত্রা, সবকিছুই হয় একসঙ্গে। এই ঐতিহ্য সামাজিক ঐক্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে চলেছে বছরের পর বছর ধরে। এখানে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই।

আরও Bihar Fatehpur Muharram