হরমুজ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তেল আমদানি চালিয়ে গেছে ভারত, অবাক গোটা বিশ্ব!

Published:

India Oil Import

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য (India Oil Import)। তেহরান আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে ওই অংশ দিয়ে তেল সহ অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে আসতে একেবারে কাল ঘাম ছুটে যাচ্ছে দেশগুলির। সেই তালিকার বাইরে নয় ভারতও। সবচেয়ে বড় কথা, ভারত অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকটাই এই পথ দিয়ে আমদানি করে থাকে। তবে হরমুজ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পরেও জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখে গিয়েছে নয়া দিল্লি। তাতে দেশে তেলের ঘাটতিও দেখা দেয়নি তেমন! কিন্তু কীভাবে, কোন দেশ থেকে কঠিন সময়ে তেল আমদানি করল ভারত?

হরমুজ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তেল আমদানি করে গিয়েছে ভারত

ইরান হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে দেয় ভারত। কঠিন সময়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। গত মার্চ মাসে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন গড়ে 19.8 লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। যা গত মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্লেষক মহলের দাবি, আমেরিকা ভারত সহ অন্যান্য দেশগুলিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই মস্কো থেকে তেল আমদানি বাড়ায় ভারত। যদিও আমেরিকার কথামতো আগামী 16 মে পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে দিল্লি।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, তেল সহ অন্যান্য জ্বালানির জন্য ভারত শুধুমাত্র রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল নয়। একই সাথে গত মার্চ মাসে অ্যাঙ্গোলা থেকে প্রতিদিন 3.27 লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে ভারত। যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় তিনগুণ। পাশাপাশি এপ্রিলের মাঝামাঝি ইরান থেকে গড়ে প্রতিদিন 2.76 লাখ ব্যারেল ও ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন 1.37 লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করে গিয়েছে নয়া দিল্লি। একই সাথে ভারত নাইজেরিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। মূলত সে কারণেই কঠিন সময়ও অপরিশোধিত তেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি নয়া দিল্লিকে।

অবশ্যই পড়ুন: পার ক্যাপিটা GDP-তে ভারতকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ, রিপোর্টে প্রকাশ IMF-র

প্রসঙ্গত, দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিকল্প খুঁজে নিলেও মোট তেল আমদানির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। যেখানে ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন 52 লাখ ব্যারেল অপরিশোরিত তেল আমদানি করত নয়া দিল্লি, সেখানে গত মার্চ মাসে তেল আমদানির পরিমাণ কমে মোট তেল আমদানি দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন 45 লাখ ব্যারেলে।