বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ফের ধাক্কা খেল পাকিস্তান (Pakistan)! কেন্দ্রীয় সরকার দেশের বাজারে চিনির মূল্যবৃদ্ধি আটকাতে চিনি (Sugar) আমদানির উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভারতে চিনি আমদানির স্বপ্ন দেখছিলেন পাকিস্তানের কল মালিকরা। অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার হয়তো সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসতে পারে পাকিস্তানের সাদা শস্য। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হচ্ছে না। ভারত সরকারের তরফে একেবারে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর যাই হোক পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য হবে না। এক কথায়, ইসলামাবাদ এবং দিল্লির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকছে।
পাকিস্তানের স্বপ্ন ভাঙল ভারত!
দেশে লাফিয়ে বাড়ছে চিনির দাম। মূলত উৎসবের মরসুমে চিনির ব্যাপক চাহিদা অন্যদিকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে আখ চাষে ক্ষতি হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এই সাদা শস্যের দাম। না বললেই নয়, দু সপ্তাহেরও কম সময়ে মাত্র 12 দিনে চিনির দাম প্রায় 10 টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত সে কারণেই দেশের বাজারে চিনির মূল্যবৃদ্ধি রুখতে চিনি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক তুলে দিয়েছিল নয়া দিল্লি। আর এই পদক্ষেপের পরই পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা ভারতে চিনি আমদানির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।
পাক সংবাদমাধ্যমের কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সীমান্ত দিয়ে চিনির একটা অংশ বিক্রির জন্য পাকিস্তান সরকারের ওপর একপ্রকার চাপ দিচ্ছিলেন পশ্চিমের দেশের চিনির কল মালিকারা। ফলে ভারতে পাকিস্তানি চিনি আসার জল্পনা বাড়তেই এবার পদক্ষেপ নিল নয়া দিল্লি। গত শুক্রবার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের বাজারে পাকিস্তানের চিনি আসবে কিনা!
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে 10 লাখ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহারের পরপরই পাকিস্তানের থেকে চিনি আমদানি, প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একেবারে পরিষ্কারভাবে জানান, পাকিস্তানের প্রতি ভারতের অবস্থান এবং নীতি খুব স্পষ্ট। আর তাতে কোনও রকম বদল আসবে না। অর্থাৎ পাকিস্তান থেকে চিনি আমদানি করবে না ভারত।
আরও পড়ুন: “সিস্টেমে ভুল আছে! অন্নপূর্ণার টাকা সবাই পাবেন…” বড় বয়ান শমীক ভট্টাচার্যের
উল্লেখ্য, গত বুধবার, 1.05 লক্ষ টন চিনি বিক্রির জন্য বিশ্বব্যাপী দরপত্র বা টেন্ডার ডেকেছিল পাকিস্তান। তাতেই জল্পনা বেড়েছিল হয়তো ভারতে আমদানি হতে পারে এই চিনি। তবে নয়া দিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, দেশে চিনির অত্যাধিক চাহিদা তৈরির ফলে চিনি আমদানির প্রয়োজন হলে বিশ্ব বাজারে প্রচুর বিকল্প রয়েছে। ভারত সেসব জায়গা থেকে চিনি কিনবে। জানিয়ে রাখি, 2025 সালের মে মাসে, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই পাকিস্তানের সাথে সব রকম বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত।










