‘গেট অফ প্যারাডাইস’, এই রেল রুটে মেঘের উপর দিয়ে যায় শিয়ালদা, কলকাতার ট্রেন!

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গোটা দেশের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য রেলপথ (Indian Railways)। যার বুক চিরে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে ছুটে চলে একের পর এক ট্রেন। ভারতের বিভিন্ন রেলপথ বৈশিষ্ট্য এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে ভিন্ন। তেমনই এ দেশের বুকে এমন এক রেলপথ রয়েছে যা পাহাড় এবং সবুজের মেলবন্ধনে ঘেরা এক মনোরম পরিবেশের মাঝে অবস্থিত। সবচেয়ে বড় কথা, এই রেলপথ দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় মনে হয় যেন ট্রেনের গা ছুঁয়ে যাচ্ছে মেঘ! যাত্রীরাও ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় এক অপরূপ সৌন্দর্যের সাক্ষী থাকেন। কিন্তু কোথায় রয়েছে এমন রেলপথ?

পাহাড় এবং সবুজে ঘেরা অসমের এই রেলপথে আগে ভ্রমণ করেছেন?

অসমের ডিমা হাসাও জেলায় অবস্থিত হাফলং ভ্যালি মূলত অসমের একমাত্র হিল স্টেশন বা পাহাড়ি শহর হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের মনোরম পরিবেশ এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য বারবার ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের আকর্ষণ করে। আর ঠিক এই হাফলং ভ্যালি বা নিউ হাফলং থেকে বদরপুর পর্যন্ত রয়েছে বিস্তীর্ণ রেলপথ। এই অংশের নিত্যযাত্রীরা বলেন, “রেল লাইনের উপর থেকে যখন ট্রেন যায়, ট্রেনের জানালা থেকে বাইরের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মনটা কেমন যেন নেচে ওঠে!”

নিউ হাফলং থেকে বদরপুর পর্যন্ত রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন একাধিক মেল/এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত করে। যেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস, শিয়ালদা-সাবরুম কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, শিলচর এক্সপ্রেসের মতো একাধিক ট্রেন। বলাই বাহুল্য, অসমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই রূট দিয়ে প্রতিদিন চারটি এবং সপ্তাহে 36টি মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত করে।

না বললেই নয়, নিউ হাফলাং থেকে বদরপুর পর্যন্ত 71 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ট্রেনগুলি সময় নেয় দেড় ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ আড়াই ঘন্টা পর্যন্ত। অসমের এই রেলরুটের নিত্যযাত্রীদের দাবি, ট্রেন যখন পাহাড়ি মনোরম পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যায় ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন এইচডি ওয়ালপেপার। শুধু তাই নয়, যাত্রীদের দাবি আবহাওয়া ভালো থাকলে কখনও কখনও ট্রেন ব্রিজের উপর থেকে যাওয়ার সময় মেঘের গা ঘেঁষে যায়। দেখে মনে হয় যেন ট্রেনটিকে আলিঙ্গন করছে মেঘগুলি। কেউ কেউ আবার বলেন, এই রুটে ট্রেনগুলি প্রায়শই মেঘের উপর দিয়ে যাতায়াত করে!

অবশ্যই পড়ুন: লাগবে না ফ্রিজ, লু বইলেও জল থাকবে ১০-১৪ ডিগ্রি ঠান্ডা! জানুন উপায়

বলে রাখা প্রয়োজন, নিউ হাফলাং থেকে বদরপুর পর্যন্ত 71 কিলোমিটার রেলপথে 21টিরও বেশি সুরঙ্গ রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই দীর্ঘ রুটেই জটিঙ্গা নামক জনপ্রিয় রহস্যময় স্টেশনটি রয়েছে। যেখানকার বাসিন্দাদের দাবি, এই অঞ্চলের আকাশ থেকে নাকি মাঝেমধ্যেই পাখিদের মৃতদেহ মাটিতে পড়ে! কেউ কেউ বলেন, জটিঙ্গায় এমন কিছু অলৌকিক শক্তি রয়েছে যার কারণে পাখিরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।