কমল গোল্ড রিজার্ভ, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারেও পতন

Published:

Foreign Exchange Reserves of India

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের অর্থনীতি নিয়ে ফের খারাপ সংবাদ। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনার ভাণ্ডার একধাক্কায় অনেকটাই হ্রাস পেল (Foreign Exchange Reserves of India)। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরবিআই-র তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোট ৫.৬৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে ৬৬৬.৯৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তার আগের সপ্তাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯৬৩ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ৬৭২.৫৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এতটা পতন?

কমে গেল দেশের ফরেক্স রিজার্ভ

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সবথেকে বড় উপাদান অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে ৫৪১.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউরো, পাউন্ড বা ইয়েনের মতো মার্কিন ডলার বহির্ভূত মুদ্রাগুলির দাম ওঠানামা ফরেক্স রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি দেশের স্বর্ণ ভাণ্ডারও অনেকটাই কমেছে। জানা গিয়েছে, ৫.৩৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০২.৫৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। পাশাপাশি স্পেশাল ড্রয়িং রাইটসের দাম ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে ১৮.৫৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আইএমএফ-র কাছে ভারতের রিজার্ভের পরিমাণ ২১ মিলিয়ন ডলার কমের ৪.৭৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণেই বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার একেবারে তলানিতে।

তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একেবারে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৭২৮.৪৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপর থেকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়াতেই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আর ভারতীয় রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে একেবারে তলানিতে ঠেকছে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার। বিশেষ করে বাইরের দেশ থেকে তেল আমদানি করতে বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হচ্ছে ভারতকে। সেই কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে চাপ।

আরও পড়ুন: এক বছরে ১ কোটির ক্যান্টিন বিল! জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মেয়ে প্রিয়দর্শিনীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পেট্রোল-ডিজেল চালিত যানবাহনের ব্যবহার কমাতে বলেছিলেন। এমনকি আগামী এক বছর সোনা কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে পাকাপোক্ত রাখার জন্যই দেশবাসীর কাছে এই আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি সোনা আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো হয়। যার ফলে সোনা আমদানি অনেকটাই কমে যায়, এবং গোল্ড রিজার্ভ হ্রাস পায়।