জানেন কেন ABCD-র বদলে কীবোর্ডে QWERTY লেআউট থাকে? রইল তথ্য

Published:

QWERTY keyboard

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে সবার প্রথমে ডিজিটাল মিডিয়া (Digital Media) সম্পর্কিত জরুরি জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ সমস্ত কাজই এখন অনলাইনে করা হয়ে থাকে। আজকাল কম্পিউটার ল্যাপটপ হোক বা মোবাইল, আমরা যে কীবোর্ড ব্যবহার করি, তা প্রায়শই QWERTY লেআউটে (QWERTY keyboard) থাকে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন কেন কীবোর্ডের অক্ষরগুলি A, B, C, D-এর মতো বর্ণানুক্রমে না থেকে Q, W, E, R, T, Y সাজানো হয়? চলুন আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেই রহস্য (General Knowledge) খুঁজে নেওয়া যাক।

QWERTY বিন্যাসের ইতিহাস

ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, QWERTY বিন্যাসের জন্ম উনিশ শতকের টাইপরাইটারের সময়ে। আসলে ১৮৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে মার্কিন উদ্ভাবক ক্রিস্টোফার ল্যাথাম শোলেস টাইপরাইটারের ডিজাইন নিয়ে কাজ করছিলেন। যখন সে প্রথম বাণিজ্যিক টাইপরাইটার আবিষ্কার করেন, তখন এর কিবোর্ডটি ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমেই সাজানো ছিল। কিন্তু সেই সময় একটা অসুবিধা তৈরি হয়েছিল। জানা গিয়েছে, সেকালের টাইপরাইটারে প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে একটি করে ধাতব হাত বা ‘টাইপ বার’ যুক্ত থাকত। আর সেটাই ছিল সমস্যার মূল কারণ।

দ্রুত টাইপ করতে গেলেই হয়ে যেত সমস্যা

টাইপরাইটারে যখন কোনও কী চাপা হত তখন সেই ধাতব বারটি গিয়ে কাগজের ওপর কালির ফিতেয় আঘাত করত এবং অক্ষরটি ছাপা হত। এবার যখন টাইপিস্টরা দ্রুত টাইপ করতেন, তখন পর পর থাকা বর্ণগুলোর ধাতব বারগুলো একে অপরের সঙ্গে আটকে বা ‘জ্যাম’ হয়ে যেত। টাইপিস্টকে তখন কাজ থামিয়ে সেই জ্যাম ঠিক করতে হত। তাই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে শোলস কীবোর্ডের অক্ষরগুলির বিন্যাস নিয়ে নানা পরীক্ষা চালান। আর সেখান থেকেই QWERTY বিন্যাসের যাত্রা শুরু। এতে বেশি ব্যবহৃত কিছু অক্ষর ঠিকঠাক জায়গায় রাখা থাকলে কোনো অসুবিধা হয় না।

আরও পড়ুন: জানেন, কেন Starbucks-এর লোগোতে জলপরী-র ছবি রয়েছে?

কীবোর্ডের একেবারে উপরের সারির প্রথম ছয়টি অক্ষর_ Q, W, E, R, T এবং Y থেকেই এর নাম হয়েছে ‘QWERTY’। এই লেআউটের মাধ্যমে একদিকে যেমন জ্যাম করানো যায় ঠিক তেমনই আবার দুই হাতের আঙুলের মধ্যে কাজের ভারসাম্য তৈরি করা যায়, যাতে টাইপিং আরও মসৃণ হয়। পরবর্তীতে ‘রেমিংটন’ (Remington) কোম্পানি এই কিবোর্ড ডিজাইনটি কিনে নেয় এবং তা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে টাইপরাইটার উৎপাদন শুরু করে। আর যেহেতু এটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে, তাই পরবর্তীতে যখন কম্পিউটার বা মোবাইল এল, তখন থেকেই এই একই লেআউট চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হল।