৯০ বছরের পুরনো রেলপথে ছুটবে ব্রডগেজ ট্রেন, সুবিধা হবে ৮ শহরের

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। এবার ৯০ বছরের পুরনো রেল লাইনে ছুটবে ব্রডগেজ ট্রেন। উপকৃত হবেন একাধিক শহরের মানুষ। আসলে রাজস্থানের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাতে পারে মাভলি জংশন থেকে মারওয়ার জংশন (Rajasthan Rail)  পর্যন্ত ব্রডগেজ রেল প্রকল্প। প্রায় ৯০ বছরের পুরনো মিটার-গেজ রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজস্থানের মেওয়ার ও মারওয়ার অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে উদয়পুর থেকে যোধপুরের মধ্যে যাত্রার সময় বর্তমান প্রায় সাত ঘণ্টা থেকে কমে চার ঘণ্টার কাছাকাছি হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুটি শহরের মধ্যে রেলপথের দূরত্বও প্রায় ২৫০ কিলোমিটার কমতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

মাভলি-মারওয়ার রেল প্রকল্পের লক্ষ্য কী?

মাভলি জংশন-মারওয়ার জংশন (Mavli Junction-Marwar Junction) রেলপথ রাজস্থানের একটি ঐতিহাসিক রেল সংযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে মিটার-গেজ লাইনে ট্রেন চলাচল করেছে। বর্তমানে এই পুরনো রেলপথকে আধুনিক ব্রডগেজ নেটওয়ার্কে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মেওয়ার ও মারওয়ার অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পুরনো রেললাইনকে নতুন প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা নয়। বরং রাজস্থানের বিভিন্ন শহর, পর্যটনকেন্দ্র এবং শিল্পাঞ্চলকে আরও ভালো রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসাই এর অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে উদয়পুর থেকে যোধপুর যাওয়ার জন্য যাত্রীদের তুলনামূলক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। নতুন সংযোগ চালু হলে যাত্রার সময় অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে এই সময় ও দূরত্ব কমার বিষয়টি প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়া এবং কার্যকর ট্রেন পরিষেবার উপর নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর শাস্তির খাঁড়া? বেআইনি নিয়োগ যাচাইয়ের নির্দেশ সরকারের

দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে রেললাইন উন্নয়নের কাজ

মাভলি থেকে মারওয়ার পর্যন্ত রেল সংযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনাটি দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে নাথদ্বারা থেকে দেবগড় মাদারিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮২ থেকে ৮৫ কিলোমিটার রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ চলছে। এই অংশের জন্য প্রায় ৯৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা জানা গিয়েছে। প্রকল্পের ৯৫ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই রেলপথে ঘণ্টায় ১২১ কিলোমিটার গতিতে ট্রায়াল চালানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে কাঙ্করোলি, বেজনাল, সোনিয়ানা মেওয়ার, কুঁয়াড়িয়া, লাভাসর্দরগড়, আমেট, কুঁয়াথাল এবং দেবগড় মাদারিয়ার মতো স্টেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অংশ চালু হলে রাজসামন্দ এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা উন্নত রেল যোগাযোগের সুবিধা পেতে পারেন। এতদিন যেসব এলাকার মানুষকে রেল পরিষেবা পেতে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হতো, তাঁদের জন্য নতুন সংযোগটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেবগড় মাদারিয়া থেকে মারওয়ার জংশন পর্যন্ত প্রায় ৭২ থেকে ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অংশের জন্য রেল মন্ত্রক চূড়ান্ত স্থান সমীক্ষা বা Final Location Survey (FLS) অনুমোদন করেছে বলে জানা গিয়েছে। সমীক্ষার উদ্দেশ্যে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অংশে নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও বাকি। ফলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ কবে শুরু হবে এবং কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

৯০ বছরের পুরনো রেলপথ পাবে আধুনিক রূপ

মাভলি-মারওয়ার রেললাইনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩৬ সালে এই রেলপথ নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়। কয়েক দশক ধরে এই রুটে মিটার-গেজ লাইনের মাধ্যমে ট্রেন চলাচল করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেল যোগাযোগের চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পুরনো রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রডগেজ রেললাইন চালু হলে এই রুটে আরও উন্নত ট্রেন পরিষেবা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও রেলপথটির গুরুত্ব বাড়বে। মেওয়ার ও মারওয়ার অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ উন্নত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং পর্যটক—সকলেই উপকৃত হতে পারেন।

পর্যটনে জোয়ার আসার সম্ভাবনা

এই রেল প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হল এর ভৌগোলিক অবস্থান। প্রস্তাবিত রেলপথটি আরাবল্লি পাহাড়, উপত্যকা এবং ঐতিহাসিক অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। ফলে রাজস্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। কুম্ভলগড় দুর্গ, দেওগড় এবং টোডগড়-রাওলি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মতো পর্যটনস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রেল সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে পর্যটকদের অনেক ক্ষেত্রেই সড়কপথের উপর নির্ভর করতে হয়। উন্নত রেল যোগাযোগ তৈরি হলে পর্যটকদের যাতায়াতের বিকল্প বাড়বে। এর ফলে রাজস্থানের পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে উদয়পুর ও যোধপুরের মতো জনপ্রিয় পর্যটন শহরের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখার সুযোগ বাড়বে। ছোট শহর ও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলিও বৃহত্তর পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

google button