সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার হতে চলেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের জায়গায় বসতে পারেন শক্তিকান্ত দাস (Shaktikanta Das)। হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এমনই ইঙ্গিত মিলছে। এমনকি বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে (Minister of Finance) পাঠানো হতে পারে অন্য আরেক দফতরে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু সূত্র মতে, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই এই রদবদল দেখা যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় পরিবর্তন
রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো যেমনটা শোনা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বর্তমান মুখ্য সচিব তথা আরবিআই-র প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকেই এবার মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করিয়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হতে পারে। তবে তা হলে, বর্তমান অর্থ এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে পাঠানো হতে পারে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে। উল্লেখ্য, নির্মলাজি ২০১৯ সাল থেকেই অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এমনকি বিগত বাজেটগুলিতে গোটা দেশবাসীকে চমক দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে মুখ খোলেনি।
কে এই শক্তিকান্ত দাস?
জানিয়ে রাখি, শক্তিকান্ত দাস আইএএস-র একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব নিলে দেশের অর্থনীতির রূপরেখা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২৫ তম গভর্নরের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন সঞ্জয় মালহোত্রা। এমনকি কার্যকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মোট আটটি কেন্দ্রীয় বাজেট প্রণয়নে সরাসরি তিনি জড়িত ছিলেন। সেই সূত্রে এই খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন করে ঝালানোর কিছু নেই।
আরও পড়ুন: একই পরিবারে দুই মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের যোগ্য হলে কে পাবে ৩০০০ টাকা? জানুন নিয়ম
সবথেকে বড় ব্যাপার, ২০১৬ সালে দেশজুড়ে নোট বাতিলের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়েও তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবেই নিযুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি। এমনকি ভারতের হয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্ক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক, এবং এশীয় পরিকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাঙ্কে বিকল্প গভর্নর হিসেবেই তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এবার কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনিক কিছুটা রদবদল করতে পারে।










