নেতাজিকে ‘জাতির সন্তান’ ঘোষণার দাবি, খারিজ করে CJI বললেন এমন করলে নিষিদ্ধ করব

Published:

Supreme Court of India On

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতের স্বাধীনতার নেপথ্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Subhas Chandra Bose) অবদান কতখানি তা আলাদা করে বোধহয় বলার প্রয়োজন পড়ে না। নেতাজিকে জাতির সন্তান হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। একই সাথে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আজাদ হিন্দ ফৌজকে ভারতের স্বাধীনতার কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। এমন দাবি নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন একা আইনজীবী। তবে অবাক করা বিষয়, আইনজীবীর সেই মামলা খারিজ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে তিরস্কার করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।

নেতাজিকে জাতির সন্তান ঘোষণা করার দাবি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিশেষ আবেদন রেখেছিলেন আইনজীবী পি মোহান্তি। তবে সেই আবেদন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ খারিজ করে দিয়ে তাঁকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ওই ব্যক্তি এর আগেও এমন ধরনের আচরণ করেছেন আদালতে। এর আগে বেশ কয়েকবার তিনি এই ধরনের আবেদন দাখিল করেছিলেন। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ একেবারে স্পষ্ট ভাবে জানায়, “আবেদনকারী যদি নিজের মনোভাব পরিবর্তন না করেন, তবে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।”

এদিন আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেছিলেন, “তিনি আগেও এমন ধরনের স্বেচ্ছাচারী আবেদন দাখিল করেছেন। আদালতে এমন অভ্যাস অন্যায্য এবং এতে আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে।” বলাই বাহুল্য, এদিন প্রধান বিচারপতির বক্তব্য চলাকালীন আবেদনকারী জানিয়েছিলেন, এবারের আবেদন একটু ভিন্ন। এটি আগের আবেদনগুলির মতো নয়। এখানে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর বিষয় জড়িত।

আবেদনকারীর এমন বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চায়, এই আবেদন পত্রটি কে খসড়া করেছেন? উত্তরে মোহান্তি জানান, “মুখার্জি স্যার এটি খসড়া করেছেন।” আর তারপরই বেঞ্চ তাতে আপত্তি জানায়। বলে রাখি, ওই আবেদন পত্রটিতে যে দুটি দাবি করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি হল, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে জাতির সন্তান ঘোষণা করা হোক। দ্বিতীয়ত, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য আলাদা করে স্বীকৃতি হোক।

অবশ্যই পড়ুন: শুধু রিঙ্কু নন, KKR-কে জিতিয়েছেন এই দুজনও

প্রসঙ্গত, এদিন আবেদনকারীকে তিরস্কার করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট একেবারে স্পষ্ট ভাষা জানায়, আবেদনকারী শুধুমাত্র প্রচারের আলোতে আসার জন্য এই ধরনের আবেদন করছেন। তিনি আগেও এই ধরনের আবেদন করে নিজেকে প্রচারে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। তবে আদালত সেগুলির প্রত্যেকটিকে খারিজ করে দিয়েছে। এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগকে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছে।