অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতীয় রেল (Indian Railways) হল দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই অনেকে একে ভারতের ‘লাইফলাইন’ বলে থাকেন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত যাতায়াত করেন। টিকিট বুকিং বা রিজার্ভেশনের সময় রিগ্রেট (REGRET) কথাটি অনেক সময় দেখতে পান যাত্রীরা এবং এর সাথে নো রুম বা এনআর (NR) বার্তাটিও প্রদর্শিত হয়। এই ক্ষেত্রগুলিতে কনফার্মড তো দূরের কথা, ওয়েটিং-লিস্টের টিকিটও পাওয়া যায় না। ইন্ডিয়ান রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্রেন রিগ্রেট হয়ে গেলে ওয়েটিং লিস্টেও রিজার্ভেশন পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এমনটা কেন হয় জানেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক, রেলওয়েতে রিগ্রেট কথার অর্থ কী।
রেলে ‘রিগ্রেট’ মানে কী?
ভারতীয় রেল দ্বারা পরিচালিত জেনারেল, মেল এবং এক্সপ্রেস – এই ট্রেনগুলিতে সিট রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা থাকে। এরজন্য যাত্রীদের আগে থেকেই টিকিট বুক করতে হয়। সিট রিসার্ভ করে ও কনফার্মড টিকিটের সাথে আরামে ভ্রমণ করা সম্ভব হয়। তবে রিসার্ভড ট্রেনগুলিতে প্রতিটি শ্রেণির জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা থাকে। তার ওপর ভিত্তি করেই প্রথমে কনফার্মড টিকিট ইস্যু করা হয়।
আরও পড়ুন: দিঘায় লোকাল ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে ভিডিও, রেলের পদক্ষেপের ভয়ে চাইল ক্ষমা
এরপর মেলে রিজার্ভেশন এগেইনস্ট ক্যান্সেলেশন (RAC) টিকিট পাওয়া যায়। আরএসি-এর সীমা শেষ হয়ে গেলে, ওয়েটিং লিস্টের টিকিট দেওয়া শুরু হয়। ট্রেনের মোট আসনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আরএসি এবং ওয়েটিং টিকিটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। তবে, আরএসি-এর মতোই, ওয়েটিং টিকিটেরও একটি সীমা রয়েছে, যা এক একটি ট্রেনে এক একরকম হয়। ওয়েটিং টিকিটের সীমা পূর্ণ হয়ে গেলে, সেই ট্রেনের টিকিটটি ‘রিগ্রেট’ হয়ে যায়। অর্থাৎ, সেই ট্রেনে আর রিজার্ভেশন করা যায় না।
আরও পড়ুন: শুরুতেই বেতন ৩৫,৪০০! ভারতীয় রেলে ৪ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগ
উল্লেখ্য, ভারতীয় রেলে ট্রেনের টিকিট বুক করার সময়, রিজার্ভেশন কাউন্টারের বুকিং ক্লার্ক এনআর (NR) নামে একটি কোড ব্যবহার করেন, যার অর্থ “নো রুম”। এর প্রকৃত অর্থ হল ওই ট্রেনে ওয়েটিং লিস্টের টিকিটও আর পাওয়া যাবে না। ট্রেনটি আসন সংখ্যার ওপর নির্ভর করে রিজার্ভড, আরএসি ও ওয়েটিং লিস্ট – সমস্ত ধরনের টিকিট ইস্যু করার সীমা পূর্ণ হয়ে গেছে।










