প্রথমবার ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপারে সফল ‘কবচ’ ট্রায়াল, ১৬০ কিমি গতিতে ছুটল ট্রেন

Published:

Vande Bharat Sleeper

সহেলি মিত্র, কলকাতা: রেল যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আরও এক ধাপ এগোল ভারতীয় রেল। প্রথমবার ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনে বসল কবচ (Kavach) সিস্টেম, হল ট্রায়াল রান। ভারতীয় রেল সোমবার দিল্লি-পালওয়াল সেকশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করেছে। ১৬-কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটির এটিই ছিল প্রথম পরীক্ষা কবচ সহ। দিল্লি-পালওয়াল রুটে কবচ সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি পরীক্ষা করার জন্য বন্দে ভারত ট্রেনটিকে তার পূর্ণ পরিচালন গতিতে চালানো হয়।

কবচ সিস্টেমের সঙ্গে ছুটল বন্দে ভারত স্লিপার

জানা গিয়েছে, পুরো যাত্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। তবে, রুটটি মাত্র ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। সেকশনটির প্রধান লাইনে কাজ চলার কারণে ট্রেনটিকে একটি লুপ ট্র্যাকে চালানো হচ্ছিল। ফলে এর গতি কমে গিয়েছিল। ফরিদাবাদ স্টেশনের পরেই ট্রেনটিকে পূর্ণ গতিতে আনা হয়। একারণে নিজামুদ্দিন থেকে ফরিদাবাদ যেতেও অতিরিক্ত সময় লেগেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ট্রেনটি দুপুর প্রায় ১:৩৮ মিনিটে হযরত নিজামুদ্দিন থেকে ছেড়ে দুপুর ২:২১ মিনিটে পালওয়ালে পৌঁছায়। ৩১ মিনিটের বিরতির পর ট্রেনটি আবার ছেড়ে যায় এবং বিকেল ৩:৩২ মিনিটে হযরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছায়।

আরও পড়ুনঃ বাঁকুড়ার ‘ডাকাতের গ্রাম’ থেকে NEET-এ সফল কালিমুল্লাহ, প্রথম ডাক্তার পেয়ে খুশি এলাকাবাসী

ফরিদাবাদ মেইন লাইনে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপ এবং ডাউন মেইন লাইন বন্ধ থাকায় ট্রেনটিকে লুপ লাইন দিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। ট্রায়াল রানে চলাকালীন স্টেশন ও লোকো পাইলটের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ছিল। কবচ সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সংকেত সঠিকভাবে গৃহীত হয়েছিল। এই অর্থে, পরীক্ষাটি সফল তা বলাই বাহুল্য।

কবচ কী?

কবচ হলো ভারতীয় রেলের তৈরি একটি দেশীয় স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা। এর উদ্দেশ্য হলো ট্রেনের সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা এবং দুর্ঘটনার হার শূন্যে নামিয়ে আনা। যদি কোনো লোকো পাইলট (ট্রেন চালক) সংকেত অমান্য করেন বা নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করেন, তবে এই প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই ব্যবস্থাটি রেললাইনে লাগানো আরএফআইডি ট্যাগ, ট্রেনের ইঞ্জিনে লাগানো কন্ট্রোল প্যানেল এবং রেল স্টেশনে লাগানো রেডিও টাওয়ারের মধ্যে ক্রমাগত সংকেত আদান-প্রদান করে সমগ্র রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের চালু বাঁকুড়া কলকাতা সরকারি ভলভো বাস, জানুন সময়সূচি ও রুট

এই সিস্টেমটি মূলত মানুষের ভুল সংশোধন করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একই ট্র্যাকে অন্য কোনো ট্রেন আসতে থাকে বা চালক ভুলবশত লাল সংকেত অতিক্রম করেন, তাহলে কবচ সিস্টেমটি কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অটোমেটিকভাবে ট্রেনের ব্রেক প্রয়োগ করে। এছাড়াও, খারাপ আবহাওয়া বা ঘন কুয়াশার সময়, যখন চালক সংকেতগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পান না, তখন এই সিস্টেমটি চালকের কেবিনের ডিসপ্লেতে ট্র্যাকের অবস্থা এবং সামনের সংকেতগুলো সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।