বাংলাদেশে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার নিয়ে গেল চোরে, ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয় স্থানীয়দের কাছে

Published:

Bangladesh Transformer

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশের (Bangladesh) চট্টগ্রামে রাতের অন্ধকারে চুরি হয়ে গেল বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার। তাতে বিদ্যুৎহীন (Bangladesh  Electricity Crisis) হয়ে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের 70টি পরিবারের। চোর ট্রান্সফরমার নিয়ে চলে গেলেও ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বসিয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে গ্রামবাসীর কাছ থেকে 87 হাজার টাকা দাবি করে ওই অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তাতেই মাথায় কার্যত হাত পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় টাকা দিতে হচ্ছে আমজনতাকে!

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ভোররাতে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে চুরির ঘটনাটি ঘটে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ফজরের নামাজের সময় হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই সেটাকে লোডশেডিং মনে করেছিলেন তাঁরা। তবে পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না আসায় সকাল হতেই জানতে পারেন ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্য, ভোররাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে মানুষজনের ভোগান্তি চরমে উঠেছিল। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন হয়ে থাকায় ওই অঞ্চলের পরিবারগুলির ফ্রিজে থাকা খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে চুরির বিষয়টি জানানোর পর তাঁরা শর্ত দেন, নতুন বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য 87 হাজার টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রা)  দিতে হবে। এদিকে ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ খেটে খাওয়া বা দিনমজুর হওয়ায় অত অর্থ দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে ট্রান্সফরমার না বসালে বিদ্যুৎহীন হয়ে থাকতে হবে। সব মিলিয়ে একেবারে মাথায় হাত পড়ে গিয়েছিল স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন: যোগ্য হয়েও মহিলা বলে দেয়নি চাকরি, ইন্ডিয়ান অয়েলকে ‘বিপুল’ জরিমানা করল সুপ্রিম কোর্ট

প্রসঙ্গত, খোঁজ নিয়ে জানা গেল বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ওই অঞ্চলে বিগত দিনগুলিতে বেশ কয়েকবার বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার কোনও এলাকায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেলে নতুন যন্ত্র বসানোর জন্য অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে একই এলাকায় যদি দ্বিতীয়বার বা তৃতীয়বার চুরির ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে নতুন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বসানোর পুরো খরচটাই দিতে হবে গ্রাহকদের।