বাংলাদেশে ভগবান রামের মূর্তিকে অবমাননা, আন্দোলনের ডাক ওপার বাংলার হিন্দুদের

Published:

Bangladesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশের (Bangladesh) ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে কেন্দ্র করে ছড়াল নতুন করে উত্তেজনা। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকায় বৃহত্তর আন্দোলনে ডাক দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, সম্প্রতি একটি ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননার ঘটনা এবং মূর্তি নির্মাণ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের তদন্ত যথাযথভাবে করা হয়নি। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকার শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, প্রশাসনের কাছে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেওয়া হলেও কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কী নিয়ে এই বিতর্ক?

হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, সম্প্রতি একটি ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননার ঘটনা সামনে আসে, যা নিয়ে গোটা দেশজুড়ে ক্ষোভ চড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে একটি বৃহৎ ধর্মীয় মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। এ বিষয়ে ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক উদয় রায় বলেন, আমাদের ভগবান রামকে অপমান করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়। এই অপমান সহ্য করা যায় না। বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা যদি আরও দশ বছর চলতে থাকে তাহলে হিন্দু সম্প্রদায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

আসলে সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে ভগবান শ্রীরামের একটি ৮১ ফুট উঁচু মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে উগ্রপন্থীরা হট্টগোল করে সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের মুখপাত্র সুস্মিত কর বলেন, যেখানে ভগবান রামের মূর্তি তৈরি হচ্ছিল সেখানে একদল দুষ্কৃতিকারী হট্টগোল করে, এবং তারপর হিন্দুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেয় ও হিন্দুদেরকে অপমান করে। আমরা এ বিষয়ে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। তবে সরকার কোনও রকম পদক্ষেপ নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকেলে বৃহৎ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেড় বছর ধরে চুরি করছিল মহিলাদের অন্তর্বাস! ধরা পড়তেই ‘জামাই আদর’ করল স্থানীয়রা

না উল্লেখ করলেই নয়, ভগবান রামের মূর্তিতে জুতো রাখার পরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় এই বিক্ষোভ। আর এই আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ বিষয়ে এক ছাত্রনেতা বলেন, আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলাম। এখন তা একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই আন্দোলনটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আন্দোলন এমনটা নয়, বরং আমাদের পরিচয় ও সম্মানের আন্দোলন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভের আগে হিন্দু সংগঠন ঢাকার প্রেস ক্লাবের সামনে একটি জনসভার আয়োজন করবে। সেই কারণে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শনিবার একটি বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে।