“ভারতকে তেল বিক্রি করে আমরা গোটা বিশ্বকে বাঁচিয়েছি” ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ময়দানে রাশিয়া

Published:

India Russia Oil

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নাকি অপরাধ (India-Russia Oil)। তাই ভারত (India) সহ একাধিক দেশের উপর সর্বোচ্চ 100 শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে নতুন আইন এনেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই আইনেরই তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে রাশিয়া। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ একেবারে খোলাখুলি জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল রপ্তানি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কমাতে সাহায্য করেছে। মস্কোর আরও দাবি, ভারতকে তেল বিক্রি করে গোটা বিশ্বকে বড়সড় ধাক্কার হাত থেকে বাঁচিয়েছে তারা।

প্রতিক্রিয়া রাশিয়ার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শতভাগ শুল্ক আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো বলেছেন, “ভারতের সাথে রাশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতা ইরানের উপর মার্কিন যুদ্ধের প্রভাব এবং এর ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বিঘ্ন উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশমিত করতে সাহায্য করেছে।” রাশিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী, উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রাশিয়াকে একটি নির্ভরযোগ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর দাবি, “রাশিয়া বিশ্বের এক নির্ভরযোগ্য রপ্তানিকারক দেশ। যারা কঠিন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।” রাশিয়ার ওই মন্ত্রীর বক্তব্য, ভারতকে তেল সরবরাহের মধ্যে দিয়ে গোটা বিশ্বকে বড়সড় ধাক্কার হাত থেকে বাঁচিয়েছে মস্কো! এমন বক্তব্যের পাশাপাশি আমেরিকার শুল্ক সংক্রান্ত পদক্ষেপের সমালোচনাই করেন রাশিয়ার প্রতিনিধি।

এদিকে, ভারতের তরফে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জ্বালানি আমদানির বিষয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা ও জাতীয় স্বার্থের উপর নির্ভর করে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে যা করতে হয় করবে নয়া দিল্লি। এক কথায় বলাই যায়, দেশের জনগণের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রয়োজন পড়লে আগামীতেও সেটা করবে ভারত!

আরও পড়ুন: ভারতের RAW এজেন্টকে আটক করল বাংলাদেশ? আদালতে তুলতেই মুখোশ খুলল ঢাকার!

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া থেকে তেল না কেনার জন্য ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার অর্থনীতি ভারত, চিন ও তুরস্কের উপর নির্ভরশীল। এই দেশগুলি যদি রাশিয়া থেকে তেল সহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য কেনা বন্ধ করে দেয় তবে রাশিয়া ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য।