চিনের হ্যাঙ্গর সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে আরব সাগরে ভারতকে ক্ষমতা দেখালো পাকিস্তান

Published:

Pakistan Hangor

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আরব সাগরে ক্ষমতা দেখালো পাকিস্তান (Pakistan)। ভারতীয় জাহাজের সাথে সংঘর্ষের পর সরাসরি চিনের তৈরি হ্যাঙ্গর সাবমেরিন (Pakistan Hangor Submarine) থেকে প্রথমবারের মতো গোলাবর্ষণ করল ইসলামাবাদ। মূলত পাকিস্তানের নৌবাহিনী মহড়ার অংশ হিসেবেই সমুদ্রে এই লাইভ ফায়ারিং করেছে। পিএনএস হ্যাঙ্গরের মাধ্যমে সমুদ্রে প্রথমবারের মতো অতর্কিতে গোলাবর্ষণের মধ্যে দিয়ে কার্যত ভারতের সামনে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করল পাকিস্তান, এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

শীঘ্রই পাকিস্তান সেনার পরিষেবায় যুক্ত হবে হ্যাঙ্গর

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আরব সাগরে পাকিস্তান নৌবাহিনী চিনের হাতে তৈরি যে হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে সেই সাবমেরিনটি খুব শীঘ্রই পাক সেনার পরিষেবায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে। বিশেষত এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা সজ্জিত এই সাবমেরিন দীর্ঘক্ষন জলের নিচে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাবমেরিন ঘন্টার পর ঘন্টা অর্থাৎ দীর্ঘ সময় জলের একেবারে অতলে তলিয়ে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে বলেই এটিকে খুঁজে পাওয়া শত্রুপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।

পাকিস্তান সেনার সংবাদমাধ্যম শাখা বা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানিয়েছে, হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন থেকে মহড়ার সময় ক্রুজ মিসাইলটিকে নিক্ষেপ করা হলে সেটি একেবারে নির্ভুলভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়নি, তারা ওই সাবমেরিন থেকে ঠিক কোন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করেছিল। জানা গিয়েছে, মহড়া চলাকালীন সাবমেরিন থেকে গোলাবর্ষণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। পাক সেনার আশা, এই সাবমেরিন পাকাপাকিভাবে তাদের অস্ত্রাগারে জায়গা পেলে অনেকটাই শক্তি বৃদ্ধি হবে নৌবাহিনীর।

আরও পড়ুন: ভারতের বোলিং এখনও যথেষ্ট দুর্বল, জাদেজাদের ছাতু করে প্রমাণ করে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বলাই বাহুল্য, গত 16 সেপ্টেম্বর, উত্তর আরব সাগরে জলসীমায় আচমকা ভারতের একটি জাহাজে সজোরে ধাক্কা মারে পাকিস্তানের একটি জাহাজ। যেই ঘটনায় তড়িঘড়ি ভারতে ইসলামাবাদের প্রতিনিধিকে তলব করেছিল নয়া দিল্লি। তাঁর সাথে কথা বলার সময় গোটা ঘটনা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ভারতের তরফে পাকিস্তানের এই ঘটনাকে অপেশাদার আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একইভাবে পাকিস্তানও নাকি ভারতীয় প্রতিনিধিকে এই ঘটনার পর তলব করেছিল। কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, ভারতীয় জাহাজের সাথে সংঘর্ষের পর পরই তড়িঘড়ি আরব সাগরে সামরিক মহড়ার মধ্যে দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ভারতের সামনে ক্ষমতা জাহির করল ইসলামাবাদ!

google button