জুম্মার নামাজ চলাকালীন পাকিস্তানের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬, আহত ৫০ অধিক

Published:

PAKISTAN BLAST

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Pakistan Blast) ঘটে। এই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৬ জনের। ঘটনায় আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০-এরও বেশি। কোহাটের পুরনো পুলিশ লাইন্স এলাকার একটি মসজিদের কাছে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তাবাহিনী। আহতদের তড়িঘড়ি করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ, এলাকায় বাড়ানো হল নিরাপত্তা

হিন্দুস্তানের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিস্ফোরণের জেরে মসজিদের বাইরের বেশ অনেকটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাটিতে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং একটি দেওয়ালও ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইন্স এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোহাট-হাঙ্গু সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তা অভিযান চালাতে কোনও সমস্যা না হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কেউ আটকে রয়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর কাজও চলছে বলেই জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, জুম্মার নামাজ চলাকালীন এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলেই খবর।

বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা, দাবি পুলিশের

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের আইজি জুলফিকার হামিদের দাবি, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুরনো পুলিশ লাইন্সের গেটের দিকে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। এরপরই সেখানে সশব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের কাছেও নাকি আরও একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই হামলার সঙ্গে কারা কারা জড়িত এবং ঘটনাস্থলের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

আরও পড়ুন: ২৮ বছরের সংগ্রামের অবসান! মমতার নামেই তৈরি হল নতুন তৃণমূল

বিস্ফোরণের পর কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে পর পর একাধিক আহতকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ২৫ জন আহতকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল। অন্যদিকে ঘটনাস্থলে একাধারে উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। হামলার পর এলাকায় গুলির শব্দও শোনা যায় বলে জানা গিয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে পুলিশ প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।