মিড ডে মিল নিয়ে আরেকটি বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Mid Day Meal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: আগামী মাস থেকে রাজ্যের ১ লক্ষ স্কুল পড়ুয়ার কাছে পৌঁছাবে ইসকনের (ISKCON) তৈরি মিড ডে মিল (Mid Day Meal)। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বার্তাই দিয়েছেন। তিনি জানান, ১ অক্টোবর থেকে ইসকনের সহযোগী সংস্থা ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’ (Annamrita Foundation) মোট ১ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর জন্য মিড-ডে মিল সরবরাহ করবে। গত আগস্টেই কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত স্কুলগুলির ছাত্র-ছাত্রীদের ইসকনের সহযোগী সংস্থাটি খাবার সরবরাহ করা শুরু করে। বর্তমানে এই ব্যবস্থাকে অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলিতেও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। 

অক্টোবর থেকে ১ লক্ষ শিক্ষার্থীকে ইসকনের মিড ডে মিল

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই ঘোষণা করা হয় যে, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হবে। সরকার সেসময় ইঙ্গিত দেয় যে, এই ব্যবস্থা কলকাতায় সফল হলে রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলিতেও এটি পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। তবে কলকাতায় এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বেশ কিছু অভিযোগ উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে, খাবার পাঠানোতে দেরি ও নিরামিষ খাবার পরিবেশন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তাই সরকার বাধ্য হয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং পড়ুয়াদের আলাদাভাবে ডিম পরিবেশনের ব্যবস্থা করে, যা বর্তমানে চালু রয়েছে। 

গত ১ আগস্ট কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত প্রায় ৫০০টি স্কুলে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম পোষণ’ (PM Poshan) প্রকল্পের আওতায় খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনের অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে কোনও টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই ইসকনের সহযোগী সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: বাড়ির মুখে খাবার তুলে দিতে ভরসা একমাত্র টিনের নৌকো, ত্রাণের খোঁজে মালদার খুদে অদ্রিজা

অন্যদিকে, ১১ জুলাই রাজ্য সরকার ইসকনেরই অপর একটি সংস্থা, ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’-কে আরও চারটি জেলায় মিড-ডে মিল সরবরাহের অনুমতি দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও কারণ না দেখিয়েই ১১ সেপ্টেম্বর সেই অনুমোদন বাতিলও করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা। এই আবহে এখন মিড-ডে মিল সংক্রান্ত শুভেন্দু অধিকারীর নতুন এক্স পোস্টটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তৈরি হবে বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ২৮০ কিমি এক্সপ্রেসওয়ে! জমা পড়ল প্রস্তাব

এক্স পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, সরকারি স্কুলগুলির প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশে উচ্চমানের উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত করা সুষম ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উদ্দেশ্যে পুষ্টিহীনতা দূর করাই সরকারের কাছে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর সাথে রাজ্য সরকারের এই যৌথ প্রয়াস মিড-ডে মিল বা কেন্দ্রের পিএম পোষণ পরিষেবাটিকে আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলার কাজে সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থাতে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের প্রায় ৩০,০০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর ও সদ্য প্রস্তুত করা খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসকনের সহযোগী সংগঠনকে। প্রাথমিক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সরকার এই ব্যবস্থার অধীনে আরও ১৫,০০০ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করে। ফলে বর্তমানে মোট ৪৫,০০০ পড়ুয়া এই উন্নত মানের মিড-ডে মিলের সুবিধা পাচ্ছে। তবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১,০০,০০০ শিক্ষার্থীকে এই পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে শুভেন্দু সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুষম আহারের কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে।