বাড়ির মুখে খাবার তুলে দিতে ভরসা একমাত্র টিনের নৌকো, ত্রাণের খোঁজে মালদার খুদে অদ্রিজা

Published:

Malda

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখনও দুর্বিষহ অবস্থা কাটেনি মালদার (Malda) ভূতনি চরে, গঙ্গার বাঁধভাঙা জলে রীতিমত বানভাসি অবস্থা, ডুবে (Malda Flood) রয়েছে প্রায় ৭৮ টি গ্রাম ৷ প্রশাসনের তরফে বন্যার্তদের জন্য যথেষ্ট বন্দোবস্ত করা হলেও খাবার ও পানীয় জলের সংকট (Malda Flood Relief) কিছুতেই কাটছে না৷ এই অবস্থায় ভরা গঙ্গায় ধরা পড়ল এক আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী ছবি। পরিবারের মুখে সামান্য খাবার তুলে দিতে টিনের ডিঙি বানিয়ে ত্রাণের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছোট্ট অদ্রিজা।

টিনের নৌকা করে ত্রাণ সংগ্রহ অদ্রিজার

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বুধবার শুকনো খাবার নিয়ে মালদায় বানভাসি এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন এলাকার স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল এবং ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চারদিক থেকে সাধারণেরা খবর সংগ্রহের জন্য ডিঙি নিয়ে গিজগিজ করছে। যতটা সম্ভব চিঁড়ে-গুড়ের প্যাকেট টেনে নিয়ে যাচ্ছে সকলে। আর সেই ভিড়ের দলে নাম লিখিয়েছিল ছোট্ট অদ্রিজা। কিন্তু দুঃখের বিষয় যতক্ষণে তার কাছে সুযোগ এল, ততক্ষণে আর প্যাকেট নেই, কিছু চিঁড়ে এপাশ ওপাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঠিকই কিন্তু তাতে কোনো লাভ নেই। পরে যদিও তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল প্যাকেট। বেশ খুশি হয়েছিল সে।

কী বলছেন বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল?

খাবারের প্যাকেট পেয়ে ছোট্ট অদৃজার মুখে হাসি ছিল দেখার মত। নৌকা নিয়ে তরতর করে এগিয়ে যেতেই সকলের প্রশ্নের জবাবে সে বলে, ‘সবাই মিলে খাব। বাড়িতে মা, বাবা, ঠাকুমা, দাদু আছে। আমরা তিন বোন, এক ভাই।’ শুধু অদৃজা নয়, এদিন তার মতো আরও অনেকের দেখা মিলেছে ভূতনি ব্রিজে৷ অনেক বৃদ্ধ বৃদ্ধা অশক্ত শরীর নিয়ে ডিঙি নৌকা চালিয়ে এসেছিলেন। খাবার না পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, “প্রশাসনের তরফে এবার বন্যার্তদের জন্য যথেষ্ট ভালো ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ বিভিন্ন সংগঠনও দুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। তবে, গঙ্গার জল এবার নামতে শুরু করেছে৷ আশা করছি, এবার ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

আরও পড়ুন: মাদ্রাসার সামনে দুর্গাপুজোর গেট, হাসনাবাদে বিক্ষোভ মুসলিমদের

ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়৷ দলের জেলা নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বন্যাবিধ্বস্ত উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর এবং হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। দুর্গত মানুষজনের সঙ্গে কথাও বলেন৷ এখন দেখার এই পরিস্থিতি কবে উন্নত হয়।