প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চলতি বছর আগামী ৬ নভেম্বর পালন হতে চলেছে ধনতেরাস (Dhanteras 2026)। প্রতি বছর এই দিন সৌভাগ্য লাভের আশায় অনেকেই বাড়ির জন্য সোনা, রুপোর কেনেন। অনেকে আবার ঝাঁটা, পিতলের বাসনপত্র কেনেন। কিন্তু এই উৎসব যে শুধুমাত্র ধনসম্পদ লাভের উৎসব তা নয়, একই ভাবে এইদিন পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুও (Good Health) কামনা করা হয়। তাই বলা হয়, এইদিন বিশেষ কিছু কাজ করলেই নাকি মেলে সেই সুফল। চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
জলের মাধ্যমেই কমবে রোগ
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অমৃত লাভের আশায় যখন সমুদ্র মন্থন হয়েছিল সেইসময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ধন্বন্তরী। যিনি কিনা আয়ুর্বেদের প্রবর্তক এবং দেবতাদের চিকিৎসক হিসেবে পূজিত। তাঁর আরাধনার মাধ্যমেই সুস্থ শরীর, রোগমুক্ত জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ভক্তরা। আর এই রোগমুক্তির কাজে সাহায্য করে জল। বলা হয়, এদিন স্টিল, তামা-সহ যে কোনও ধাতব বা কাঁচের গ্লাসে পরিষ্কার জল নিয়ে বাড়ির উত্তর ও উত্তর পূর্বে রাখতে হবে। এতে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে। তবে এই কাজ শুধুমাত্র ধনতেরাসের দিন ছাড়াও বছরের প্রতিটা দিনই করতে পারবেন।
তুলসী পাতায় বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাস্তুমতে, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিককে জলতত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এছাড়াও একটি সাদা কাপড় বিছিয়ে তার উপর ধন্বন্তরীর একটি মূর্তি বা ছবি স্থাপন করতে হবে। এরপর হলুদ, চন্দন, ফুল এবং তুলসী পাতা অর্পণ করতে হবে। এতে দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিরাময় হবে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। পুজোর পরে, জলের সাথে তুলসী পাতা খেতে পারেন, এটি আয়ুর্বেদিক উপায়ে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও ধনতেরাসের দিন নতুন নুনের প্যাকেট কিনে বাড়ির প্রবেশপথে ছিটিয়ে দেবেন। এতে একদিকে যেমন নেতিবাচক শক্তি দূর হয় ঠিক তেমনি আবার স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
আরও পড়ুন: ধনতেরাসের আগে সোনার গয়না পরিষ্কার করুন এভাবে, রইল টিপস
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে হলুদ এবং তুলসী অত্যন্ত উপকারী। এর জন্য এক গ্লাস গরম জলে এক চিমটি হলুদ এবং ৫-৭টি তুলসী পাতা ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর সেটি ছেঁকে সকালে খালি পেটে পান করে নিতে হবে। বলা হয় প্রতিদিন যদি এই পানীয় পান করা হয় তাহলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।










