প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই আসছে ধনতেরাস (Dhanteras 2026)। আর এই উৎসব এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। কেউ এদিন সোনা কেনে তো কেউ বা আবার রুপোর গয়না কেন। কিন্তু বর্তমানে সোনা রুপোর যা দাম তাতে অনেকেই হোচট খাচ্ছেন। তবে দীপাবলির দিন সোনা রুপো ছাড়াও আজকাল অনেকেই ঝাঁটা কিনছে (Broom Buying On Dhanteras)। কিন্তু আপনি কি জানেন আদতে দীপাবলির দিন ঝাঁটা কেনা শুভ কিনা? কেনই বা সকলে ঝাঁটা কেনে? চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।
কেন কেনা হয় ঝাঁটা?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরসে ঝাঁটা কেনা শুভ। কারণ, ঝাঁটা আমাদের ঘর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আর মা লক্ষ্মীও পরিষ্কার ঘরবাড়ি পছন্দ করেন। তাই ধনতেরসের দিন বাড়িতে ঝাঁটা আনলে মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে সূর্যাস্তের পর ঝাঁটা কেনা উচিত নয়। অনেকে আবার বাড়িতে নতুন ঝাঁটা এলে পুরনো ঝাটা সেদিনকেই ফেলে দেয় বা পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু শাস্ত্রমতে এই কাজ করা খুবই খারাপ। এমনকি পুরনো ঝাঁটা যদি কেউ সেদিনকে বাইরে পুড়িয়ে ফেলে রেখে দেয় তাহলেও নাকি সেটি অশুভ। মনে করা হয় এতে নাকি নেতিবাচক শক্তির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই ঝাঁটা ফেলার সময় কাগজে মুড়িয়ে সেটিকে ফেলা উচিত।
ঝাড়ুকে মা লক্ষ্মীর প্রতীক ধরা হয়
শাস্ত্র অনুযায়ী ধনতেরসের দিন নতুন ঝাঁটা এনে পুরনো ঝাঁটা বাড়ি থেকে বার করার হলে কালীপুজোর পরের দিন, অমাবস্যা ছেড়ে যাওয়ার পরবর্তী সময়কে বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝাড়ুকে মা লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। কারণ ঝাড়ু দিয়ে যেমন বাড়ির ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করা হয়, তেমনই প্রতীকী অর্থে এটি সংসার থেকে দারিদ্র্য, অশুভ শক্তি ও নেতিবাচকতা দূর করার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়াও ঘরে লক্ষ্মীর বাস হয় এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।
আরও পড়ুন: জানেন বাসুকি নাগ ও শেষনাগ আসলে দুই ভাই? রইল সেই কাহিনী
এদিকে ঝাঁটা কেনার চক্করে বাজারে বেশ বিক্রি হয়ে থাকে। পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে শপিংমল, সমস্ত জায়গায় ঝাঁটার চাহিদা চরমে ওঠে। রাস্তায় সকলের হাতে হাতে দেখা যায় ঝাঁটার বান্ডিল। চলতি বছর ধনতেরাস পালিত হবে আগামী ৬ নভেম্বর, শুক্রবার। ত্রয়োদশ তিথি শুরু হবে ওইদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ হবে ৭ নভেম্বর রাত ১০টা ৪৭মিনিটে।










