আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাড়িতে নতুন গ্যাস সিলিন্ডার (Gas Cylinder) আসলে বেশিরভাগ ব্যক্তিই সিলিন্ডারটি সরাসরি রান্নাঘরের এক কোণে রেখে দেন বা সঙ্গে সঙ্গে ওভেনের সঙ্গে জুড়ে দেন। ব্যবহারের আগে সিলিন্ডারের কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা না করে আগুনের সংস্পর্শে নিয়ে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। সচেতনতার অভাবে সিলিন্ডারের ত্রুটি থেকেই বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই নতুন সিলিন্ডার হাতে পাওয়ার পর কয়েক মিনিট সময় নিয়ে আগে এই তিনটি বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
মুখে লিক রয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
সিলিন্ডার পাওয়ার পর প্রথমে তার মুখে লাগানো ক্যাপটি খুলে নিন। এরপর মুখের অংশে অল্প জল ঢেলে পরীক্ষা করুন। সেখানে যদি জলের মধ্যে একটানা বুদবুদ উঠতে দেখা যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে সিলিন্ডারের মুখে লিক রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেটি কোনওভাবেই ব্যবহার না করে সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দেওয়া উচিত। আর বুদবুদ না উঠলে সিলিন্ডারে ওই জায়গায় লিক নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়। পরীক্ষা শেষ হলে জল ফেলে শুকনো কাপড় দিয়ে মুখটি মুছে নিতে হবে।
গ্যাসের পরিমাণ যাচাই করবেন কীভাবে?
সিলিন্ডারে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে কিনা, সেটিও একটি সহজ উপায়ে বোঝা যায়। এজন্য সিলিন্ডারের গা একটি ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। কিছু সময় পর দেখা যাবে, কিছুটা অংশ শুকিয়ে গিয়েছে, এবং কিছুটা অংশ ভেজা রয়েছে। যে অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ভেজা থাকে, সেখানেই গ্যাস রয়েছে এবং শুকনো অংশটি ফাঁকা রয়েছে। এই শুকিয়ে যাওয়া অংশের পরিমাণ বেশি হলেই সেটি সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কম থাকার ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন: দেশকে জিতিয়েছেন পদক, ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে জনতার দরবারে চাকরিহারা প্যারা অ্যাথলিট
A28, B26 এই ধরনের সংখ্যা লেখা থাকে কেন?
সিলিন্ডারের গায়ে থাকা A28, B26 বা C26-এর মতো কোডও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির মাধ্যমে সিলিন্ডারের নির্ধারিত সময়সীমা বোঝানো হয়। এটা দেখেই বোঝা যায় আপনার সিলিন্ডারটি কবে এক্সপায়ার করবে। A দিয়ে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ; B দিয়ে এপ্রিল, মে ও জুন; C দিয়ে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এবং D দিয়ে অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসকে বোঝানো হয়। পাশের সংখ্যাটি নির্দেশ করে সাল। যেমন, A28 লেখা থাকলে বুঝতে হবে সিলিন্ডারটি ২০২৮ সালের মার্চ মাসে এক্সপায়ার হবে। তাই সিলিন্ডার হাতে পাওয়ার পর এই বিষয়গুলি যাচাই করে তবেই ব্যবহার করা নিরাপদ।









