কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় ভুলেও করবেন না এই কাজ, নইলে ঘটবে বড় বিপদ

Published:

Lakshmi Puja 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উমার কৈলাসে যাওয়ার পরেই আশ্বিন মাসের শেষে পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর (Lakshmi Puja 2026) আরাধনা করা হয়। ঘরে ঘরে এদিন মা লক্ষ্মী যেন স্বয়ং তাঁর চরণের ছাপ ফেলে যান উঠোনে। ছোট করে হলেও প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই ভক্তিভরে দেবী লক্ষ্মীর পূজা হয়ে থাকে। নারী-পুরুষ উভয়েই এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু অনেকেই এই আরাধনার সময় বেশ কিছু ভুল কাজ করে ফেলেন, এতে মা লক্ষ্মী (Lakshmi Puja) রুদ্ররূপ ধারণ করেন এবং সংসার ছেড়ে চলে যান। তাই আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নিন কোন কাজগুলো ভুলেও করা উচিত নয়।

ঘরে ঘরে পূজিত জন মা লক্ষ্মী

ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য মহালক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। ঘরে ঘরে তাই তুঙ্গে চলে প্রস্তুতি। প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতেই ধনদেবীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। তবে মায়ের আরাধনা করার সময় বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নইলে হতে পারে সমস্যা। কারণ, দেবীর কৃপাদৃষ্টি লাভ না করলে সাংসারিক জীবন নষ্ট হয়ে যায়। সন্তুষ্ট হওয়ার পরিবর্তে দেবী অসন্তুষ্ট হন। তাই আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেবীর আরাধনায় বেশ কিছু সতর্কবার্তা দেওয়া হল।

কী কী কাজ করা উচিত নয়?

  • পুজোর আসনে লাল ও গোলাপি ছাড়া অন্য কোনো রঙের পোশাক পরবেন না। অনেকে অন্য রঙের কাপড় ব্যবহার করেন। তাই সেক্ষেত্রে রঙের দিকে খেয়াল রাখুন। এমনকি ভুলেও কালো ও সাদা কাপড়ে যেন মায়ের মূর্তি রাখা না হয়।
  • অলক্ষ্মী পুজোর ক্ষেত্রে লোহার বাসন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ভুলেও যেন লক্ষ্মীপুজোতে লোহার বাসন ব্যবহার না হয়, হতে সংসারে বিপদ বেড়ে যায়। এমনকি দেবীর আরাধনায় ভুলেও তুলসির পাতা ব্যবহার যেন না হয় সেদিকে নজর রাখবেন।
  • দেবী লক্ষ্মী আসলে শান্তির প্রতীক, তাই যেখানে পুজো হবে সেই জায়গাটি যেন শান্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ভুলেও পুজোর সময় অবাঞ্ছিত শব্দ করবেন না। কাঁসর বা ঘণ্টা বা ঢাক একদমই বাজাবেন না। তবে পূজার সময় শঙ্খের শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ফোনের SIM বদলানোর আগে সুইচ অফ করা জরুরি? জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

  • দেবী লক্ষ্মীকে সাদা ফুল নিবেদন করা যায় না। তবে লাল, গোলাপি ও হলুদ ফুল দিলে দেবী সন্তুষ্ট হবেন। ভুলেও কাচের প্রতিমা পুজো করবেন না। অবশ্যই মাটি, পিতল, অষ্টধাতু কিংবা রূপোর প্রতিমা পুজো করুন।
  • বাড়িতে ঢোকার মুখে জুতো খুলে রাখবেন না। এমনকি ঝাঁটাও যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এছাড়াও কেউ যদি আপনার থেকে টাকা পায়, তাহলে তাঁকে অন্য দিন ফেরৎ দেবেন, ভুলেও লক্ষ্মীপুজোর দিন ফেরত দেবেন না।
  • মা লক্ষ্মীকে অন্নভোগ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন তা আসন থেকে পড়ে না যায়। এটি আসলে খাদ্যতৃষ্ণার প্রতীক। নইলে সংসারে বিপদ ধেয়ে আসবে। এছাড়াও মায়ের আরাধনার দিন কোনো ভিখারি যদি ভিক্ষা চাইতে আসে তাহলে তাঁকে ফেরত পাঠাবেন না, অল্প খাবার এবং বস্ত্র প্রদান করতে পারেন।
google button