আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গরম পড়ার সাথে সাথে খাবারের তালিকাও বদলে যায়। বিশেষ করে দুপুরের খাবারে কী খেলে শরীর ভালো থাকবে, হজমে সমস্যা হবে না, আবার অতিরিক্ত গরমেও অস্বস্তি বাড়বে না, তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকেই। বাঙালির মধ্যাহ্নভোজনে ভাত (Rice) অত্যন্ত প্রিয় হলেও স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে অনেকেই রুটিকে (Roti) বেশি গুরুত্ব দেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, গরমকালে রুটি নাকি ভাত, কোনটি বেশি উপকারী? পুষ্টিগুণ, হজমের সুবিধা এবং শরীরের চাহিদা বিচার করলে দুটিরই আলাদা কিছু ভালো দিক রয়েছে।
হজমের ক্ষেত্রে এগিয়ে কে?
গরমে অনেকের মধ্যেই গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে সাদা ভাত তুলনামূলক সহজে হজম হতে পারে। কারণ পালিশ করা সাদা চালের ভাতে ফাইবার কম থাকায় তা দ্রুত হজম হয়। অন্যদিকে, গোটা গমের আটায় তৈরি রুটিতে ফাইবার বেশি থাকে। ফলে তা হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। যাঁদের হজমের সমস্যা বা সংবেদনশীল অন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভাতকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক বলে মনে করা হয়।
পুষ্টিগুণ ও শরীরের জলীয় ভারসাম্য
রুটি এবং ভাতের পুষ্টিগুণ এক নয়। গোটা গমের আটার রুটিতে ফাইবার, প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রান্নার সময় চাল প্রচুর জল শোষণ করে বলে ভাতে জলীয় উপাদান বেশি থাকে। তাই অনেকেই ভাতকে বেশি প্রাধান্য দেন। তবে শুধু ভাত খেলেই যে শরীরের জলের চাহিদা পূরণ হবে, এমনটা ভাবা কিন্তু ঠিক নয়। গরমে পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি।
তাহলে কোন খাবার থেকে কী সুবিধা মিলতে পারে?
- রুটি: ফাইবার বেশি থাকায় অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
- সাদা ভাত: তুলনামূলক সহজপাচ্য এবং দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
- লাল বা ব্রাউন রাইস: সাধারণ সাদা চালের তুলনায় বেশি ফাইবার ও কিছু অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায়।
ব্লাড সুগার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কোনটি ভালো?
যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অথবা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণভাবে গমের আটার রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাদা ভাতের তুলনায় কম। তাই রুটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ততটা বৃদ্ধি পায় না। আবার ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও ভাতের চাইতে রুটি অনেক বেশি উপযোগী। তবে যদি ভাবেন শুধু ভাত বাদ দিয়ে রুটি খেলেই ফল মিলবে, তাহলে ভুল ভাবছেন। খাবারের মোট ক্যালোরি, পরিমাণ এবং দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
আরও পড়ুন: ১২০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, কতটা প্রভাব পড়বে বাংলায়?
তাহলে গরমে দুপুরে কী খাবেন? আসলে রুটি ও ভাতের মধ্যে কোনও একটিকে সবার জন্য সেরা বলা যায় না। যাঁদের হজমে সমস্যা হয়, তাঁরা পরিমিত পরিমাণে ভাত খেতে পারেন। আবার যাঁরা বেশি ফাইবার চান কিংবা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে চান, তাঁদের জন্য গমের আটার রুটি ভালো বিকল্প হতে পারে। দুপুরের খাবারে দুটির যেটিই রাখুন, সঙ্গে ডাল, মরশুমি সবজি, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন এবং দই রাখতে পারেন। এতে খাবারের পুষ্টিগুণের ভারসাম্য বজায় থাকবে। গরমে পর্যাপ্ত জল পান, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। অর্থাৎ শুধু রুটি না ভাত, এই দ্বন্দ্বে না গিয়ে নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।










