ক্রিকেট দিয়ে জটিল অঙ্কের সমাধান! বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতি বানিয়ে এক্সক্লুসিভ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নাম সোদপুরের শিক্ষকের

Published:

Exclusive World Records

অনন্যা সরকার, উত্তর ২৪ পরগণা: ব্যাটে বল ঠেকতেই সোজা মাঠের বাইরে উড়ে গেল বল। ভরা স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাসের রোল উঠল – এ দৃশ্য আমাদের বহু পরিচিত। ক্রিকেট মাঠে উভয় দলের রান চেজ করার লড়াই, বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি ও শক্তিশালী প্লেয়ারের আউট হওয়ার উত্তেজনা – সব মিলিয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই খেলা। তবে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন ক্রিকেট এবং গণিতের মধ্যে রয়েছে এক গভীর সম্পর্ক। রান রেট, হাতে থাকা উইকেটের হিসাব থেকে শুরু করে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ – পুরো খেলাটিই নির্ভরশীল সংখ্যার ওপর। এছাড়া প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ, ম্যাচের কৌশল তৈরি এবং প্রথম একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গণিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্রিকেটের সাথে গণিতের এই যোগসূত্রকে কাজে লাগিয়ে গণিত শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার এ অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন সোদপুরের বাসিন্দা ও পেশায় গণিতের শিক্ষক ভাস্কর পাল। এই উদ্যোগের জন্য ‘এক্সক্লুসিভ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ (Exclusive World Records) সম্মান জানিয়ে তাঁকে।

‘এক্সক্লুসিভ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ নাম উঠল বাংলার গণিতের শিক্ষকের 

উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের নাটাগড়ের মহেন্দ্রনগরের বাসিন্দা ভাস্কর পাল ক্রিকেটের নানা আঙ্গিককে গাণিতিক সমস্যায় রূপান্তর করেছেন এবং সেগুলো সমাধানের জন্য ৬০টি ভিন্ন গাণিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর এই অভিনব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এক্সক্লুসিভ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ তাঁকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করেছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে গণিত শিক্ষার সাথে যুক্ত করার এই উদ্যোগটি তাঁর অনন্য শিক্ষাদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ভাস্কর পাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি সুন্দরবনের সন্দেশখালিতে অবস্থিত ‘সুকদোয়ানি গাববেড়িয়া দয়ালচাঁদ বিদ্যাপীঠ হাই স্কুল’-এ গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর পাশাপাশি গণিত শিক্ষাকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজও করে থাকেন তিনি। এর আগেও তিনি ১০০টি ভিন্ন লিপিতে গাণিতিক সংখ্যা লিখে বিশেষ পরিচিতি পান।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ছাত্রী গড়লেন নজির, ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের প্রাক্তনী সুযোগ পেলেন ISRO-এ

একটি সাক্ষাৎকারে ভাস্কর পাল জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হল, নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণিতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো। তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি এক অমোঘ ভালোবাসা লক্ষ্য করেন। তাই সেই আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে গণিত শেখাতে আগ্রহী হন তিনি। তাঁর কথায়, পরিচিত কোনো খেলার প্রেক্ষাপটে অঙ্কের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরলে তা শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক বেশি সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাঁর এই বৃহত্তর লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সুন্দরবন শ্রীধরাচার্য গণিত ক্লাব’, যেখানে তিনি অঙ্ক শেখানোর নানান নতুন ও মজাদার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে চলেছেন। 

ভাস্কর পাল বিশ্বাস করেন, আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে শিখলে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে এবং তাদের গাণিতিক জ্ঞানের পরিধিও প্রসারিত হবে। এখানে ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং অঙ্কের ভীতি দূর করা ও বিষয়টির প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। খেলার আনন্দের সঙ্গে সংখ্যার যুক্তিকে একত্রিত করার একটি সৃজনশীল শিক্ষাদান পদ্ধতির স্বীকৃতি হিসেবেই ভাস্কর পাল এই সম্মান অর্জন করে নিয়েছেন। এটি তাঁর একটি সুপরিকল্পিত ও আন্তরিক  শিক্ষামূলক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণিতের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলা।

google button