সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ডলারের বিপরীতে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আমানত সংগ্রহের ফলে বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ৪৭ পয়সা বেড়ে ৯৪.২৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমনকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য পতন হওয়ায় রুপির এই সামগ্রিক উত্থান। তবে এই রেট কতদিন স্থির থাকবে তা এখনই বলা সম্ভবপর নয়।
ডলারের বিপরীতে অনেকটাই মূল্য বদল ভারতীয় টাকার
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দিনের পর দিন নিম্নস্তরের দিকে ঠেকছে ভারতীয় টাকা। কারণ, অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে একেবারে ১০০ ডলারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছুটা দরপতনের পর রুপির উপর চাপ দূর হয়েছে। আসলে যেহেতু ভারতকে তার সিংহভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, তাই ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বাড়লে ডলারের উপরেই বাড়তি চাপ পড়ে। যার কারণে মূল্য পতন হয় ভারতীয় টাকার।
আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯৪.৩০ টাকায় রুপি লেনদেন শুরু হলেও তা বেড়ে ৯৪.২৬ টাকায় গিয়ে পৌঁছয়, যা বিগত দিনের বন্ধের দরের থেকে ৪৭ পয়সা বেশি। প্রসঙ্গত, বুধবার রুপি ৯৪.৭৩ টাকায় বাজার বন্ধ হয়েছিল যা মঙ্গলবারের থেকে ২২ পয়সা বৃদ্ধি। এমনকি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে রেকর্ড ১২৭.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে ভারত সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কারণেই রুপি অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে। এমনকি রিজার্ভ ব্যাংকের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের কারণে রুপির মূল্য পতন কিছুটা হলেও ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেডলাইন ৩১ অক্টোবর, সপ্তম বেতন পে কমিশন নিয়ে ওয়েবসাইট খুলল নবান্ন
অন্যদিকে ছয়টি প্রধান কারেন্সির বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপকারী সূচক যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধ মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে ০.১৬ শতাংশ কমে ৯৯.৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার ট্রেড ০.১৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৫.৪৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। এমনকি রুপির দাম বাড়ায় শেয়ার বাজারের উপরেও পড়েছে প্রভাব। দিনের শুরুতেই এদিন সেনসেক্স ২২১.১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৬,৭৯১.৫২-তে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নিফটি ৫৯.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৯৭৪-এ লেনদেন হচ্ছিল।










