৫২ বছরেরও বেশি পুরনো ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করল RBI, আপনার অ্যাকাউন্ট আছে?

Published:

Reserve Bank of India cancelled licence of this Ban

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আর্থিক বেনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়কে সামনে রেখে বিগত দিনগুলিতে বেশকিছু ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)। এবার সেই পথ ধরেই 52 বছরেরও বেশি পুরনো মুম্বইয়ের সারভোদায়া কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করে দিল RBI। জানা যাচ্ছে, এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং ক্রমাগত ভুল ও অনিয়মের কারণেই ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তের পর গতকালই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে ব্যাঙ্কটির সমস্ত পরিষেবা।

ঠিক যে কারণে বাতিল করা হল ব্যাঙ্কটির লাইসেন্স

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্রের ওই ব্যাঙ্কটিতে পর্যাপ্ত মূলধন অবশিষ্ট ছিল না। এমনকি আগামী সময়েও এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয়ের খুব একটা সম্ভাবনাও ছিল না RBI এর। এমতাবস্থায়, এই ব্যাঙ্কে আর্থিক লেনদেন গ্রাহকদের জন্য সুরক্ষিত নয় বলেই মনে করছিল RBI। ঠিক সেই কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কটি ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক্ষতি হবে গ্রাহকদের?

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ওই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সমস্ত ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। একই সাথে এই ব্যাঙ্ক গতকালের পর থেকে আর নতুন কোনও অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ক্লোজ করতে পারছে না। অর্থাৎ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সমস্ত ধরনের লেনদেন বন্ধ হল। তবে এতে গ্রাহকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। RBI সকলকে আশ্বস্ত করেছে, যেসব গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কটিতে খাতা খুলেছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের আমানত সুরক্ষিত। ডিপোজিট ইন্সুরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি একক আমানতকারী 5 লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা কভারেজ পাবেন। RBI এর মতে, 2026 সালের 31 মার্চ পর্যন্ত, ডিআইসিজিসি ইতিমধ্যেই কোটি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে।

অবশ্যই পড়ুন: নতুন মুখ্যমন্ত্রী পদে বসতেই কর্মীদের খুলল কপাল, DA বৃদ্ধির ঘোষণা সরকারের

প্রসঙ্গত, এর আগে 2024 সালের এপ্রিলে RBI মহারাষ্ট্রের কো-অপারেটি ব্যাঙ্কটির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এই সময় গ্রাহকদের অর্থ প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট লিমিট সেট করে দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে ব্যাঙ্কটিকে নতুন ঋণ কার্যক্রম থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বেশ কিছু কারণে একাধিকবার বিধি-নিষেধ বাড়িয়েছিল RBI। শেষ পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ক্রমাগত অবনতির কারণে সেটির লাইসেন্স বাতিল করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।