সহেলি মিত্র, কলকাতা: নতুন শ্রম আইন (Labour law) নিয়ে প্রকাশ্যে এল বড় আপডেট। ইতিমধ্যেই দেশে নতুন শ্রম আইন কার্যকর হয়েছে। অভিযোগ, এরপর থেকে বেতনভোগী কর্মচারীরা বেতন প্রদানের সময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছেন। সব বিবেচনা করার পর জারি করা হল নতুন নিয়ম। এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাদের মাস শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও আরও অন্যান্য নিয়ম জারি করা হয়েছে। চলুন সে সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করে নেওয়া যাক।
শ্রম আইনে নতুন বেতন নিয়ম
জানা গিয়েছে, দৈনিক মজুরি উপার্জনকারীদের তাদের শিফট শেষে, সাপ্তাহিক কর্মীদের ছুটির আগে এবং পাক্ষিক কর্মীদের পাক্ষিক শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যে বেতন দিতে হবে। যদি কোনো কর্মচারী পদত্যাগ করেন, ছাঁটাই হন বা বরখাস্ত হন, তবে কোম্পানিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পন্ন করতে হবে। এই নিয়মটি বেতন-সংক্রান্ত বিরোধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
একগুচ্ছ নিয়ম জারি সরকারের
পুরোনো ১৯৩৬ সালের মজুরি প্রদান আইনের বিপরীতে, নতুন শ্রম আইনটি ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা ও বেশি বেতনভোগী কর্মচারীসহ সকল কর্মচারীর বেতন স্তর নির্বিশেষে তাদের উপর প্রযোজ্য। এছাড়াও ধরুন যদি কোনো নিয়োগকর্তা মজুরি প্রদানে দেরি করেন বা অনুমোদন ছাড়া অর্থ কর্তন করেন, তবে কর্মচারীরা এই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এই কর্মকর্তা বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবেন এবং বকেয়া মজুরি প্রদান নিশ্চিত করবেন। যদি বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়, তবে কর্মচারী বা কর্মকর্তা শিল্প ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন। নিজের টাকা আদায়ের জন্য সব পথ খোলা থাকবে কর্মচারীর কাছে।
আরও পড়ুনঃ শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া
নিয়ম বলছে, কর্মচারীরা এখন ৩ বছর পর্যন্ত বকেয়া বেতন দাবি করতে পারবেন, যেখানে আগে এই সময়সীমা ছিল ছয় মাস থেকে দুই বছর। এর ফলে কর্মচারীরা প্রমাণ সংগ্রহ করতে এবং একটি ন্যায্য সমাধান চাইতে আরও বেশি সময় পাবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী , নিয়োগকর্তাদের বেতনের সাথে মুদ্রিত বা ইলেকট্রনিক পে-স্লিপ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও, নিয়োগকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপ রোধ করার জন্য মজুরি কর্তনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি নিয়োগকর্তা অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হন, তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব হিসাবে সেই অর্থ আদায় করা হবে।










