নোবেলের থেকে তিনগুণ বেশি ! বিজ্ঞানের অস্কার জিতে কত পেলেন বাঙালি অধ্যাপক অশোক সেন?

Published:

Bengali professor Ashoke Sen wins Oskar Klein Medal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: স্ট্রিং থিওরি (String Theory) বা তন্তুতত্ত্বে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক অশোক সেন পেলেন ২০২৬ সালের ‘অস্কার ক্লাইন মেডেল’ (Oskar Klein Medal)। ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস’ (ICTS)-এর পক্ষ জানানো হয়েছে যে, তিনিই প্রথম ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী যিনি এই সম্মান অর্জন করলেন। স্ট্রিং থিওরি, স্ট্রিং ফিল্ড থিওরি এবং ব্ল্যাক হোল এনট্রপির ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অস্কার ক্লাইন কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক সেনকে পুরস্কার হিসেবে দিয়েছে ৩ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার সমতুল্য। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অর্থের পরিমাণ নোবেল পুরস্কারের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

কলকাতা থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছালেন বাঙালি অধ্যাপক 

অশোক সেন ১৯৫৬ সালের ১৫ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা অনিল কুমার সেন ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর, তিনি ১৯৭৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি অমল কুমার রায়চৌধুরীর লেকচার ও গবেষণার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। পরের বছর তিনি আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন এবং স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে জর্জ স্টারম্যানের তত্ত্বাবধানে গবেষণা শুরু করেন।

ফার্মিল্যাব এবং স্ট্যানফোর্ড লিনিয়ার এক্সিলারেটর সেন্টারে গবেষণার পর তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এদেশে তিনি টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ ও প্রয়াগরাজের হরিশ-চন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর আইসিটিএস (ICTS)-এ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইনফোসিস মাধব চেয়ার প্রফেসর’ পদে কর্মরত আছেন। এছাড়া, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি (MIT) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি’-এর সঙ্গেও গবেষণার কাজে যুক্ত রয়েছেন। অশোক সেনের এই সাফল্যের জন্য আইসিটিএস (ICTS)-এর পরিচালক রাজেশ গোপাকুমার তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শনিবার হাওড়া ডিভিশনের ১৪টি লোকাল ট্রেন বাতিল, তালিকা দিল পূর্ব রেল

উল্লেখ্য, ‘এস-ডুয়ালিটি’ (S-duality) নিয়ে তাঁর গবেষণা বিভিন্ন স্ট্রিং থিওরিকে একটি বৃহত্তর, ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের ভিন্ন ভিন্ন রূপ হিসেবে বোঝার পথ প্রশস্ত করেছে। এছাড়াও, অশোক সেন ওপেন-স্ট্রিং ট্যাকিয়ন কনডেনসেশন (open-string tachyon condensation) সংক্রান্ত অনুমান, আনস্টেবল ডি-ব্রেন (unstable D-branes) নিয়ে গবেষণা এবং ব্ল্যাক হোল এনট্রপি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর প্রাপ্ত অ্যাওয়ার্ডগুলির মধ্যে রয়েছে আইসিটিপি প্রাইজ (১৯৮৯), শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার (১৯৯৪), পদ্মশ্রী (২০০১), ইনফোসিস প্রাইজ (২০০৯), ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সে ব্রেক থ্রু প্রাইজ (২০১২), পদ্মভূষণ (২০১৩) এবং মর্যাদাপূর্ণ ডিরাক মেডেল (২০১৪)। এবার তাঁর মুকুটে প্রথম ভারতীয় হিসেবে যুক্ত হল অস্কার ক্লাইন মেডেলটিও। এর সাথে ৩ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন তিনি। 

জানিয়ে রাখি, সুইডেনের পদার্থবিজ্ঞানী অস্কার ক্লাইনের সম্মানে ১৯৮৮ সালে প্রবর্তিত এই পদকটি স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের নোবেল কমিটি ফর ফিজিক্স যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রদান করে থাকে। গত ২২ অক্টোবর স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবানোভা সেন্টারে অশোক সেনের স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’। 

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন