অনন্যা সরকার, নদিয়া: পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রাফটিং’ বা জোড়কলম পদ্ধতিতে বেগুন চাষ (Grafted Brinjal Farming) প্রথাগত চাষাবাদের ধারণাকে বদলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি নদিয়ার কৃষক দিব্যেন্দু বিশ্বাস পশ্চিমবঙ্গে অ্যাভোকাডো চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। তার পাশাপশি তিনি সহায়ক ফসল হিসেবে গ্রাফ্টিং বেগুনেরও চাষ করেন। এই আধুনিক কৌশল কাজে লাগিয়ে প্রগতিশীল কৃষক প্রচলিত চাষাবাদে দেখা দেওয়া রোগবালাই ও ফসলহানির মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠেছেন। বছরে এই ফসল থেকে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা আয় করছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য বহু কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষির একটি লাভজনক মডেল হয়ে উঠেছে।
কীভাবে হয় গ্রাফটেড বেগুনের চাষ?
প্রচলিত বেগুন চাষে ‘ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট’ বা গাছ ঢলে পড়া রোগ (Bacterial Wilt) এবং শিকড় পচে অন্যতম বড় সমস্যা সমস্যা। গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বুনো প্রজাতির বেগুন বা তিত বেগুন (যেমন Solanum torvum বা Solanum sisymbriifolium)-কে ‘রুটস্টক’ বা মূল অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ওপর ভিএন আর ২১২ (VNR 212)- এর উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের বেগুন কলম বা ‘সায়ন’ হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়। বুনো প্রজাতির বেগুনের শিকড়ে রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, তাই গাছগুলো সুস্থ থাকে এবং ফলন অনেক বাড়ে।
কৃষক দিব্যেন্দু বিশ্বাস আধুনিক পদ্ধতিতে জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে উঁচু বেড তৈরি করেন। প্রতিটি বেড ৪ ফুট চওড়া করেন এবং একটি গাছ থেকে অন্য গাছের মাঝে ২.৫ ফুট দূরত্ব রাখেন। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং আগাছা দমন করতে বেডের ওপর ‘মালচিং পেপার’ বিছিয়ে দেওয়া হয়। ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতির মাধ্যমে গাছে সুষমভাবে জল ও সার সরবরাহ করা হয়। মালচিংয়ের নিচে মাটি ঠান্ডা ও আর্দ্র থাকে, যা শিকড়ের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: পরপর চারবার ব্যর্থ হয়েও হাল ছাড়েননি, প্রথমে IPS, তারপর IAS হয়ে স্বপ্ন পূরণ বিকাশ কুণ্ডুর
উল্লেখ্য, গ্রাফটেড চারা, মালচিং পেপার এবং ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম বসানোর জন্য শুরুতে কিছুটা বেশি বিনিয়োগ করতে হলেও, রোগ প্রতিরোধী রুটস্টক ব্যবহারের ফলে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক বাবদ খরচ অনেকটাই কমে যায়। সাধারণ বেগুনের গাছ সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস টিকে থাকে, কিন্তু গ্রাফটেড গাছ ৭ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত ফলন দিতে পারে। এভাবে বেগুন চাষ করে বছরে একবিঘা জমি থেকে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা আয় করছেন দিব্যেন্দু বিশ্বাস। তার মধ্যে ওষুধ, সার ও মজুরি বাবদ ২.৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করেও, তাঁর লাভ হচ্ছে ৪.৫ লক্ষ থেকে ৫.৫ লক্ষ টাকা।










