সৈকত বাঁচাতে একাই লড়াইয়ে! মন্দারমণির ১৩ কিমি উপকূল প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ শিক্ষকের

Published:

Shyamal Jana Plastic Free Drive

অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: প্রকৃতি প্রাণীকুলকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায়। কিন্তু জেনে কিংবা অজান্তে প্রতিনিয়ত মানুষরাই প্রকৃতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে, তার মধ্যেও রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যারা পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য প্রাণপাত করছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের শ্যামল জানা (Shyamal Jana) তাঁদের মধ্যেই একজন। তিনি শুরু করেছেন এক অভিনব উদ্যোগ। পেশায় শিক্ষক শ্যামল কাঁথির কুলাই পদিমা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে কর্মরত। শিক্ষকতা ছাড়াও, তিনি এই অঞ্চলে একজন পরিবেশকর্মী হিসেবেও সুপরিচিত। গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যার জন্য নিয়মিত জল দেওয়ার পাশাপাশি, তিনি এখন মন্দারমণি ও দিঘার মাঝের ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলকে প্লাস্টিকমুক্ত (Plastic Free) করার অভিযানে নেমেছেন।

সমুদ্র সৈকতকে প্লাস্টিক মুক্ত করার অভিযানে নামলেন শিক্ষক

প্লাস্টিক দূষণের ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়ে শ্যামল জানা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। তিনি মনে করেন, পর্যটকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে দূষিত করে। এই সমস্যা মোকাবিলা করতে গত শুক্রবার তিনি সমুদ্রসৈকত পরিষ্কারের একটি অভিযান শুরু করেন। সকালে দুটি বস্তা ও কিছু লম্বা লাঠি নিয়ে সৈকতে পৌঁছে তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তবে দ্রুতই বুঝতে পারেন যে, এত বড় একটি কাজের জন্য মাত্র দুটি বস্তা একেবারেই যথেষ্ট নয়। তাঁর ধারণা, এই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, তা দিয়ে অনায়াসেই দুই থেকে তিনটি পিকআপ ট্রাক ভরে ফেলা যাবে।

শ্যামল জানার কথায়, একা হাতে এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন, তাই অদূর ভবিষ্যতে তিনি আরও মানুষকে এই কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি প্রতি মাসে অন্তত দু’বার সৈকত পরিষ্কারের অভিযান চালানোর পাশাপাশি সংগৃহীত প্লাস্টিক কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সেরা ১০০ এথিক্যাল হ্যাকারের তালিকায় জায়গা করে নিলেন রায়গঞ্জের সুপ্রিয়

এছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরও বড় লক্ষ্য রয়েছে শ্যামলবাবুর। তিনি ৫,০০০ বটগাছ লাগানোর স্বপ্ন দেখেন। ইতিমধ্যেই দেশে ও বিদেশে ২,৩০০টিরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন। শ্যামল জানা সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই উদ্যোগের প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর এই অনন্য প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো উপকূলবর্তী অঞ্চলকে পরিচ্ছন্ন রাখা ও সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্যকে সুরক্ষিত করা।

google button