“বোকা ছিলাম তাই ভেবেছিলাম…” হঠাৎ দিলেন ইস্তফা জনপ্রিয় IAS, কারণ কী?

Published:

IAS Officer Divya Mittal

অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: রবিবার উত্তর প্রদেশ ক্যাডারের ২০১৩ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার দিব্যা মিত্তল (IAS officer Divya Mittal) ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (IAS) থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখে জানান যে, স্বেচ্ছায় আইএএস থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। এই ইস্তফাপত্র মাধ্যমে এক অবিস্মরণীয় ১৩ বছরের যাত্রার সমাপ্তি ঘটলো। কেন পদত্যাগ করলেন দিব্যা, তা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট নয়। তবে দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা প্রাপ্তির কথা তিনি তাঁর আবেগঘন এই পোস্টে ব্যক্ত করেছেন। কী জানালেন দিব্যা, আসুন দেখে নিই।

আইআইটি, আইআইএম-এর সফর শেষে দেশের কাজে আত্মনিয়োগ দিব্যার 

সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা দিব্যা আর পাঁচজনের মতোই একটি সুন্দর ও সফল জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi) এবং আইআইএম ব্যাঙ্গালোরে (IIM Bangalore) দিনরাত পরিশ্রম করার পর লন্ডনে একটি চাকরি পান। কিন্তু সবকিছু পেয়েও যেন কি একটা না থাকার কষ্ট তার মনে কাজ করতো। নিজের দেশে না থাকার কারণে অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। তিনি যেখানে পৌঁছাতে পেরেছিলেন তার পিছনে তাঁর মাতৃভূমির অনেক অবদান ছিল। আর সেই ঋণ শোধ করতেই দিব্যা এক নতুন ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখেন এবং তাতে নিজের ছাপ রেখে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাই দেশে ফিরে আসেন এবং কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে একজন আইএএস অফিসার হন। ইস্তফা দেওয়ার আগে, দিব্যা মিত্তল রাজস্ব বিভাগে বিশেষ সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দিব্যা তার পোস্টে জানিয়েছেন, আইএএস অফিসার হওয়ার পর অনেক কিছু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি এবং অনেক কিছু শিখেছেনও। তিনি বলেন, তাঁর নিজের জন্য দেখা স্বপ্নগুলো পূরণ হয়েছে, তাই মানুষের জন্য দেখা স্বপ্নগুলো পূরণ করার জন্য তিনি বদ্ধপরিকর হন। এই জীবনে প্রকৃত শান্তি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন সেই পরিবারের চোখে, যারা প্রথমবারের জন্য জমির মালিক হওয়ার অধিকার পেয়েছেন, সেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চোখে, যিনি মর্যাদার সাথে বাঁচার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেই কৃষকের চোখে, যার জমিতে জল এসেছে। তাদের লড়াইয়ের সঙ্গী হয়ে দিব্যা শিখেছেন যে প্রতিটি সরকারি ফাইলের পেছনে একটা মানুষ ও অনেক আশা লুকিয়ে থাকে এবং তার মর্যাদা রক্ষা করাই হল আসল কর্তব্য।

আরও পড়ুন: বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, এবার মোছা হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশবিরোধী স্লোগান

দিব্যা মিত্তল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, কিছু দিতে এসেছেন ভেবে তিনি আসলে বোকামি করেছিলেন। সত্যিটা হল, তিনিই সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন এবং সেই ঋণ কেবল বেড়েই চলেছে। তাঁর নিজের চেয়েও বেশি মানুষ তাঁর আনন্দে আনন্দিত হয়েছে বলে জানান দিব্যা। আমি যখন ক্লান্ত হয়েছেন বা ভেঙে পড়েন, তখনও সেই মানুষগুলো একই আস্থা নিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়েছিলেন, আর সেটাই তাঁকে এগিয়ে চলার সাহস জুগিয়েছে। আমি এত ভালোবাসা, এত সম্মান, এত স্নেহ পেয়েছেন, যে তাঁর ঝুলি ভরে গিয়েছে। আর এর জন্য তিনি তাঁর সহকর্মী, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও যারা তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন ও পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। দিব্যা মিত্তল তাঁর পোস্টে লেখেন, কৃতজ্ঞতায় তাঁর চোখ জল ভরে উঠেছে। আজ হয়তো তিনি তাঁর পদটি হারিয়েছেন, কিন্তু এই দেশের মাটি তাঁকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা তিনি কখনও ভুলবেন না।