‘গরিবের ইলিশ’ পেংবা এবার পড়বে বাঙালির পাতে, স্বাদ হুবহু হলেও দাম অর্ধেকেরও কম

Published:

Hilsa Alternative Pengba

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে গিয়েছে বর্ষা। আর এই বর্ষার ইলিশের (Ilish) খোঁজে ইতিমধ্যেই মাঝিদের ট্রলার পাড়ি জমিয়েছে সাগরে। কিন্তু ভালো মানের ইলিশের দাম বাজারে সবসময়ই অত্যন্ত চড়া। ফলে সাধের ইলিশ কিনতে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ে। সারা সপ্তাহের বাজার মুলতুবি রেখে একদিনের রসাস্বাদন ঠিক জমে না। তাই ধীরে ধীরে যদি ইলিশ উচ্চবিত্তের মাছ হয়ে যায়, তাহলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। যেসব ইলিশ বাজারে কম দামে বিক্রি হয়, সেগুলির স্বাদ বা গন্ধ – কোনোটাই পদের নয়। তবে এমন একটি মাছ রয়েছে যা দেখতে তো ইলিশের মতো নয়, কিন্তু স্বাদে হুবহু এক। এর নাম পেংবা (Pengba)। ইলিশের বদলে একবার চেখে দেখতে পারেন এক মাছ, সস্তায় মন্দ হবে না। 

ইলিশের সস্তা বিকল্প হতে পারে পেংবা মাছ

সস্তায় ইলিশের বিকল্প খুঁজলে একবার স্বাদগ্রহণ করতে পারেন পেংবা মাছের। ইলিশ না হয়েও ইলিশের মতো স্বাদ দিতে পারে এই মাছ। ইতিমধ্যেই বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মাছটির চাষ শুরু হয়ে গেছে। এমনকি হলদিয়াতে রাজ্য মৎস্য দপ্তরের সহায়তায় এই পেংবা মাছকে বাজারে আনার জন্য বেশি মাত্রায় চাষ করা শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে একমাত্র মণিপুরেই পাওয়া যায় এই মাছ। তবে এর স্বাদ পেয়ে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলার মাছ চাষিরা। রাজ্যে এমাছের চাষ শুরু করেছেন তারা। পেংবা মাছ চাষের জন্য নদী বা জলাশয় এর দরকার হয় না চৌবাচ্চাতেই বিশেষ পদ্ধতিতে এই মাছের চাষ করা সম্ভব। 

মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, পেংবা মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু এবং অবিকল ইলিশের মতোই খেতে। পাকা জিভ না হলে ইলিশ আর এই মাছের মধ্যে তফাৎ করা খুবই কঠিন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চৌবাচ্চার মধ্যে পেংবা মাছ চাষ করা  যায় এবং অল্প দিনের মধ্যেই এগুলি খাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে। মাছটি বাইরে থেকে ইলিশের মতো একেবারেই দেখতে নয়। কিন্তু স্বাদে উনিশ-বিশের তফাৎ মাত্র। মাছটিতে ইলিশের মতো বেশি কাঁটাও নেই। ইলিশের নানা পদ এই মাছের সাথে রান্না করে পেশ করলে ধরতে পারা খুব মুশকিল। চিনে এই পেংবা মাছের যথেষ্ট কদর রয়েছে। 

বিশ্বের  বিভিন্ন প্রান্তে এই মাছ অল্প-বিস্তর পাওয়া যায়। তবে শুধু হলদিয়াতে নয় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মাছ চাষ করা সম্ভব। আগ্রহী ব্যক্তিরা পুকুর বা জলাশয় লিজে নিয়ে চাষ শুরু করতে পারেন। চৌবাচ্চাতেও চাষ করা যায় পেংবা। পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য দপ্তরের তরফ থেকে এবিষয়ে চাষীদের সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে, এমনকি তারা বিনামূল্যে চারাও প্রদান করতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ মাসে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পুড়লে কত কিলোওয়াটের সোলার লাগবে? জানুন হিসেব-নিকেশ

বাহ্যিক রূপ ভিন্ন হলেও স্বাদে যেহেতু এটি ইলিশের মতোই তাই অনেকে এখন পেংবা মাছকে ‘গরিবের ইলিশ’ বলে ডাকছেন। এর দাম তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। একটি চারা তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়ে যায়। চারাগুলির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং বড় হয়ে যাওয়ার পর বাজারে বিক্রয় মূল্য ৩০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।