ডালিম ছেড়ে ধরলেন এই ফসলের চাষ, এখন বছরে ৮০ লক্ষ আয় চাষির

Published:

Success Story of Sagar Yelpale

অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: জীবনে চলার পথে যখন বাধা আসে, তখন রাস্তা বদল করেও পাওয়া যেতে পারে অভূতপূর্ব সাফল্য। এমনটাই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাগর ইয়েলপালে (Success Story of Sagar Yelpale)। সোলাপুরে তাঁর ১৮ একরের খামারটিতে ডালিম চাষ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল, আয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই সেখান থেকে সরে এসে তিনি অধিক ফলনশীল সজনা (Drumstick) চাষ শুরু করেন। আর দেখতে দেখতেই কম উৎপাদনের খরচ এবং হায়দ্রাবাদের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক চাহিদা আসায় সাগর ইয়েলপালে এখন এই উদ্যোগ থেকে বছরে ৮০ লক্ষ টাকা রোজগার করছেন।

ডালিম চাষের ঝুঁকি থেকে সরে এসে সজনে চাষ করে ব্যাপক আয়

মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের কৃষক সাগর ইয়েলপালে তাঁর পারিবারিক কৃষিজমির ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি ডালিম চাষ ছেড়ে মূলত ওডিসি-৩ (ODC-3) এবং ওডিসি-৪ (ODC-4) জাতের সজনের চাষ শুরু করেছেন। ফসল বদলের ফলে এখন বছরে ১.১৫ কোটি টাকার লেনদেনের হচ্ছে, যা থেকে বার্ষিক ৮০ লক্ষ টাকা লাভ করছেন সাগর।

আরও পড়ুন: Paytm বা Phonepe নয়, প্রয়োজন হলে এই অ্যাপ থেকেই তুলতে পারবেন PF-র টাকা!

চাষের ফসল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি ডালিম চাষের সাথে জড়িত নির্দিষ্ট আর্থিক চাপের কারণেই নিতে বাধ্য হয়েছিলেন সাগর ইয়েলপালে। তিনি জানান, আগে ১০ একর জমিতে তিনি ডালিম চাষ করতেন। কিন্তু অস্থির আবহাওয়া এবং বারবার উদ্ভিদের রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে চাষের খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। প্রতি একরে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আয়ের জন্য প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছিল। এতে লাভের পরিমাণ কমতে থাকে। তাই তিনি ফসল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন

এরপর, ২০১৭ সালে এক একর জমিতে সজনের পরীক্ষামূলক চাষ করেন। এর বীজের জন্য ৪,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৩ লক্ষ টাকা আয় হয়। এর পর ধীরে ধীরে ১২,০০০ চারাগাছ সহ ১৮ একর জমিতে সম্প্রসারিত হয়েছে এই চাষ। সাগর ইয়ালপালে তাঁর ফার্মে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছেন, যা তরল সার বা ‘স্লারি’ উৎপাদন করে। এটি সাশ্রয়ী মূল্যে মাটির উর্বরতা ও আর্দ্রতা বাড়ায়। এই পদ্ধতির ফলে কেবল মাটির স্বাস্থ্যই উন্নত হয় না, তার সাথে ব্যয়বহুল রাসায়নিক সারের ওপরও নির্ভরতা কমে। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এখন প্রতিটি গাছে বছরে ৫০ কেজি পর্যন্ত ফসল ফলাচ্ছেন সাগর।

আরও পড়ুন: “দোষ থাকতে পারে, তাই বলে জুতো-কাদা ছুঁড়বেন?” মমতার উপর হামলায় ক্ষুব্ধ অগ্নিমিত্রা

সাগর জানিয়েছেন, হায়দ্রাবাদের পাইকারি বিক্রেতারা বছরে উৎপাদিত ১৮০ থেকে ২০০ টনের প্রায় পুরোটাই তাঁর থেকে কেনেন। সজনের দাম বাজারে ঋতুর ওপর নির্ভর করে পাল্টায়। শীতকালে প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে শুরু করে গ্রীষ্মের ভরা মরশুমে প্রতি কেজির দাম ২৫ টাকার মধ্যে থাকে। তাই এখন প্রতি কেজি ৫০ টাকা গড় বার্ষিক মূল্যে মডেলটি থেকে বছরে ৮০ লক্ষ মুনাফা অর্জন করছেন সাগর ইয়েলপালে।