অনন্যা সরকার, মধ্যপ্রদেশ: কঠোর পরিশ্রম ও অভিনব চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভোপালের হর্ষিত গোধা (Success Story of Harshit Godha)। যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি তাঁর পারিবারিক ব্যবসায় না ঢুকে কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। আর আজ তিনি এতটাই সফল হয়েছেন যে, বছরে ১ কোটি টাকা আয় করছেন। গত সোমবার, ২৪ আগস্ট মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব স্বয়ং হর্ষিতের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন এবং এই সাফল্যের জন্য তাঁর প্রশংসা করেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক হর্ষিত গোধার এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার কাহিনীটি।
লন্ডনের খাদ্যাভ্যাস থেকে এল চাষাবাদ করার আইডিয়া
ভোপালের আইনজীবী পরিবারের সন্তান ২৬ বছর বয়সী হর্ষিত গোধা ২০১৩ সালে বিবিএ (BBA) পড়ার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। শরীরচর্চায় আগ্রহী ছিলেন, তাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডোকে (Avocado) ছিল তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ করে নেন। কিন্তু তখনও তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে এই সুপারফুডই তাঁর জীবন বদলে দেবে। একদিন একটি প্যাকেটের লেবেল পড়তে গিয়ে তার মনে হল ইসরায়েলের মতো উষ্ণ দেশে যদি অ্যাভোকাডোর চাষ করা যায়, তাহলে ভারতে কেন নয়? তিনি তখনই যুক্তরাজ্যে তাঁর ইন্টার্নশিপ ছেড়ে দিয়ে ইসরায়েলের কৃষকদের কাছ থেকে অ্যাভোকাডোর চাষের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর ভারতে ফিরে এসে, হর্ষিত ২০১৯ সালে ‘ইন্দো-ইসরায়েলি অ্যাভোকাডো’ – এর সূচনা করেন। কোভিড-১৯ অতিমারি এবং আইনি জটিলতার কারণে চারাগাছ আসতে দেরি হলেও, তিনি হাল ছেড়ে দেননি। ভোপাল বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত তাঁর ৫ একরের অনুর্বর ও খালি জমিকে একটি চমৎকার অ্যাভোকাডো বাগানে রুপান্তরিত করেন। তিনি প্রথমে ইসরায়েল থেকে ১,৮০০টি চারা আমদানি করেন এবং ড্রিপ ইরিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো ব্যবস্থাটি স্থাপন করেন। বর্তমানে এই গাছগুলিতে চমৎকার ফলন হচ্ছে। হর্ষিত তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও কৌশলের ফল পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিউটি উইথ ব্রেইন – তিনবছরে তিন বার UPSC ক্র্যাক, চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় IAS হলেন অর্পিতা
হর্ষিত তাঁর এই সাফল্যের মাধ্যমে শুধু নিজের উন্নতি করেছেন এমনটা নয়, তার সাথে তিনি সারা দেশের কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণাও হয়ে উঠেছেন। ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের এই যাত্রার কথা ভাগ করে নেওয়ার পর তিনি সারা ভারত থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। আজ হর্ষিত তামিলনাড়ু, কেরালা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের মতো রাজ্যের কৃষকদের কাছে ইসরায়েলি অ্যাভোকাডোর চারা সরবরাহ করেন। উৎপাদিত ফসল ও নার্সারির ব্যবসা থেকে তিনি বছরে প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি আয় করছেন। ভবিষ্যতে ফলের বাগানটিকে ১০০ একর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।










