প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গোটা বিশ্বে সকল মানবজাতির গায়ের রং যেমন এক হয় না, ঠিক তেমনই আবার চোখের মণির রংও (Eye Color) এক থাকে না। কারোর চোখের মণির রং ধূসর বাদামি বা হালকা নীল বর্ণের হয় তো কারোর আবার মণির রং হালকা সবুজ হয় (Science Behind Eye Color)। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই মণির রং কেন ভিন্ন হয়, নেপথ্যে কোন কারণ লুকিয়ে আছে। চলুন আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
মেলানিনের কারণে এই ভিন্নতা?
বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মেলানিন রঞ্জক যেমন ত্বকে থাকে, ঠিক তেমনই চোখেও থাকে। আর এই রঞ্জকের কম বেশির কারণে কারও গায়ের রং যেমন ধবধবে ফর্সা হয় ঠিক তেমনই আবার কেউ কালো হয়। ঠিক একই প্রভাব পরে চোখের মনিতে। অর্থাৎ ত্বকের মতো চোখের মণির রংও নির্ধারণ করে এই মেলানিন। এছাড়াও আলোর বিচ্ছুরণের উপর নির্ভর করে চোখের রং। জানা গিয়েছে, যে মানুষের চোখের রং কালো বা বাদামি, তাদের চোখে মেলানিনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
কোন মণিতে মেলানিনের পরিমাণ বেশি?
জানা গিয়েছে, নীল চোখে মেলানিনের পরিমাণ খুব কম থাকে, প্রায় নেই বললেই চলে। মেলানিন যেহেতু এই চোখে কম বা প্রায় থাকেই না, তাই আলোর শোষণ হয় না, খুব কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকায় আলো বেশি বিচ্ছুরিত হয় এবং সকলের চোখে প্রতিফলিত হয়ে নীল দেখায়। অন্যদিকে কালো চোখের ক্ষেত্রে যেহেতু বেশির ভাগ আলো শোষিত হয়, তাই চোখের রং কালো বা গাঢ় বাদামি দেখায়। এছাড়াও সবুজ চোখে মেলানিনের পরিমাণ নীল চোখের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে, কিন্তু বাদামি চোখের চেয়ে কম।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গিয়েছে, ধূসর চোখে মেলানিনের পরিমাণ নীল চোখের চেয়েও কম থাকে এবং স্ট্রোমাতে কোলাজেনের মতো প্রোটিনের ঘনত্ব বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রেও নীল আলোরই বিচ্ছুরণ হয়, কিন্তু কোলাজেনের ঘনত্বের কারণে এটি একটু ভিন্ন ভাবে প্রতিফলিত হয়, যার ফলে ধূসর আভা দেখা যায়। তবে মানবদেহে চোখের মণির রঙের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ইউনিক রং হল সবজেটে-বাদামি মণি। কারণ এই মণিতে মেলানিনের তারতম্য হয়। তাই দুই রঙ দেখা যায়। বলা হয় এটি জিনগত কারণে হয়ে থাকে।










