অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: নাম আছে, তবে গ্রাম (Villages) নেই! কাগজ-কলমে বা সরকারি নথিতে খুঁজলে পাবেন অস্তিত্ব, এমনকি রয়েছে নিজস্ব ভিলেজ কোডও। কিন্তু বাস্তবে দিঘা সংলগ্ন ১৪টি গ্রাম সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দিঘা (Digha) এরাজ্যের একটি প্রধান সরকারি পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, একসময় ‘বীরকুল’ নামে পরিচিত গ্রামেই আজকের দিঘা গড়ে উঠেছে। তবে আজ দিঘা গ্রামটি এই পর্যটন কেন্দ্রের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। রামনগর-১ ব্লকের তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামে এখন আর কেউ বাস করেন না, এমনকি কোনো বাড়িঘরও অবশিষ্ট নেই। কিন্তু এর কারণ কী? আসলে গ্রামটির বাস্তবে আর কোনো অস্তিত্ব নেই। সমুদ্রে সমাহিত হয়েছে। এর আশেপাশের এলাকায় এমন আরও ১৩টি গ্রামের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলির উল্লেখ সরকারি নথিতে থাকলেও, বাস্তবে আর সেখানে কেউ কখনও পৌঁছাতে পারবেন না।
দিঘা সংলগ্ন ১৪টি গ্রাম একেবারে নিশ্চিহ্ন
সম্প্রতি কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক এক পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) সমীক্ষার অগ্রগতি খতিয়ে দেখার সময় এই জনবসতিহীন গ্রামগুলোর প্রসঙ্গ উঠে আসে। রামনগর-১ ব্লকের পদিমা-২ এবং তালগাছাড়ি-২ পঞ্চায়েত এলাকা দুটি রয়েছে একেবারে সমুদ্রের গায়ে। সরকারি নথিতে এই গ্রামগুলোকে খুঁজে পাওয়া গেলেও, দাবি করা হচ্ছে যে বহু বছর আগেই এগুলো সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পদিমা-২ পঞ্চায়েতের পাঁচটি এবং তালগাছাড়ি-২ পঞ্চায়েতের আটটি গ্রামকে গ্রাস করে নিয়েছে সমুদ্র। এই গ্রামগুলি হল – দিঘা,বেগুনডিহা, আটিলি, রায়পুর, নীলপুর, ছোট বলরামপুর, তালারিয়া, পূর্ব বিরামপুর, কিয়াগড়িয়া, আলমপুর, ঝাউয়া, বেড়া খানা এবং জুনবনি।
গত ১২ আগস্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিস্তীর্ণ এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তাঁরা দেখেন যে, দিঘা মোহনার কাছে অবস্থিত উত্তর আটিলি ও বেগুনডিহা গ্রামের কোনও অস্তিত্বও নেই। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন একসময় এই উপকূলীয় এলাকায় মানুষ বসবাস করতেন, কিন্তু সমুদ্র এগিয়ে আসার কারণে তারা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। গত কয়েক বছর ধরে ওই গ্রাম দুটির পড়ে থাকা জমি বন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের অধীনে চলে গেছে।
আরও পড়ুন: ২৮ দিন পর মিলল খোঁজ, দিঘায় উদ্ধার অন্ধ্রপ্রদেশের ৭ মৎস্যজীবী
আবাস যোজনার সমীক্ষা চালানোর সময়ই এই বিষয়টি সামনে এসেছে। দেখা গেছে যে, বর্তমানে জনবসতিহীন ওই ১৪টি গ্রামের বাসিন্দাদের নামও পঞ্চায়েতের নথিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে। বিষয়টি ভূমি দপ্তরের এক্তিয়ারভুক্ত বলে দাবি করছে ব্লক কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গে রামনগর-১ ব্লকের বিডিও (BDO).শুভাশিষ মজুমদার বলেন, তারা এব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।










