সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ মহার্ঘ্য ভাতা, গ্রান্ট এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে জলঘোলার শেষ নেই বাংলায়। তবে এরই মাঝে বাংলায় ঘটে গেল নজিরবিহীন ঘটনা। এক পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়েছে ৪২ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ের পর পারিবারিক পেনশনের (Pension) টাকা পাওয়ার নির্দেশে পেলেন অবিবাহিতা মেয়ে। এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে।
মৃত্যুর ৪২ বছর পর মিলল পেনশন
বিচারপতি অমৃতা সিংহের পর্যবেক্ষণ, ১৯৮১ সালে ‘ডেথ অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট স্কিম’ চালুর আগেই কেউ অবসর নিলে বা মারা গেলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাঁর অবিবাহিত, বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়ে পারিবারিক পেনশনের সুবিধা পাবেন। এই মামলাতেও দমদমের মিনু দাসের মামলায় ১৬ সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে পারিবারিক পেনশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই ধরনের মামলায় এই রায় অনুসরণ করে পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বড় রায় হাইকোর্টের
উল্লেখ্য, সরকার ১৯৮১ সালের আগে অবসর নেওয়া কর্মীর ক্ষেত্রে পেনশন প্রযোজ্য নয় বলে যে দাবি করেছিল, তা সাফ খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। ১৬ সপ্তাহে মামলাকারীকে পারিবারিক পেনশন দিতে নির্দেশ দেন বিচারপতি সিংহ। জানা গিয়েছে, দমদম গোরাবাজারের বাসিন্দা মিনু দাস পারিবারিক পেনশন চেয়ে একটি মামলা করেছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা, অর্থাৎ সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এবং সুতীর্থ নায়েক জানান, মিনুর বাবা পরেশচন্দ্র দাস স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালে অবসর নেন। ১৯৮৪ সালে মারা যান।
আরও পড়ুনঃ পুজোর আগেই বাড়ল সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ভাতা, কত বৃদ্ধি করল সরকার?
এদিকে অবিবাহিত মেয়ে হিসেবে পারিবারিক পেনশনের দাবিতে বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেছিলেন মিনু দাস। ২০১৯ সালে তাঁর বাবার কর্মস্থলের স্কুল থেকে চাকরি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ নথি গ্রহণ করলেও পেনশনের জন্য কোনও পদক্ষেপ করেনি। এরপর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মিনু। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, অবিবাহিত, বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়ে পারিবারিক পেনশনের যোগ্য। সরকার ১৯৮১ সালের আগে অবসর নেওয়ায় পেনশন প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করলেও সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে আদালত।










