“দু’কান কাটা, ঘুষখোর” মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ অভিষেকের, পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

Published:

Abhishek Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে কোনও নোটিশ ছাড়াই ঢুকে পড়েছে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা এবং পুলিশের বিশাল বাহিনী। এমনটাই অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের। পার্টি অফিসের বাইরে অবৈধ হোর্ডিং খোলার দাবি কেএমসির। প্রথমে অর্ডার কপিতে অ্যাটেস্টেড ছবি না থাকলেও পরে সেই কপি সংশোধন করে এনে জোরপূর্বক তৃণমূল কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়েন পুলিশ এবং কেএমসি আধিকারিকরা। এমনকি অভিষেকদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।

অভিষেকের পার্টি অফিসে ধুন্ধুমার কাণ্ড

পার্টি অফিসের ভিতরেই এদিন বিপুল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঢুকে পড়েন মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা। এমনকি অভিষেক সহ তৃণমূল কর্মীদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ তোলেন সাংসদ। পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হয়। শেষে ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অভিষেক জানান, “আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না বিজেপির ক্রীতদাস পুলিশ। সূর্যাস্তের পরে এরা তালা ভেঙে ঢুকছে। আমাদের জায়গায় আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। এই হচ্ছে পুলিশ অফিসার।”

অভিষেক আরও জানান, “দলের কোনও প্রতিনিধিকে এরা ঢুকতে দিচ্ছে না। দলের যাঁরা আছেন সবাইকে আটকে রেখেছে। কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। এরা সব বিজেপির দলদাস পুলিশ। সূর্যাস্তের পরে পার্টির সাইনবোর্ড খুলতে এসেছে। দলের কার্যালয়, দলের নামে ভাড়া নেওয়া, সেই জায়গায় কেন বিলবোর্ড লাগিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস? এই দাবিতে জোর জবরদস্তি, বল প্রয়োগ করে মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে…. সব রেকর্ডিং আমাদের কাছে রয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে তোয়াক্কা না করে কোনও নোটিশ ছাড়াই পুলিশ আমাদের সকলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।” শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ঘুষখোর বলে আক্রমণ শানান। অভিষেক বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ক্যামেরার সামনে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দু’কান কাটা’ও বলেন।

আরও পড়ুন: ‘বিজেপির বাবারা মাইনে দেয়না’ ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশি হানায় বিস্ফোরক অভিষেক

প্রসঙ্গত, আজ সাড়ে চারটা নাগাদ কয়েকজন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে পৌঁছন। এমনকি কোনও নোটিশ ছাড়াই হোর্ডিং খোলার চেষ্টা করেন। এছাড়াও তাঁদের হাতে ছিল গ্যাসকাটার। এ নিয়ে প্রথমে অভিষেক এবং কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তৃণমূল সাংসদের দাবি, আধিকারিকরা উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকি তিনি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানান, “আমার অফিসের বাইরে কী বোর্ড লাগাব তা কি বিজেপি ঠিক করবে? পুলিশের তাগিদ পুরসভার থেকে বেশি।” তবে পরে জোরপূর্বক ভিতরে ঢুকে অভিষেক সহ বাকি তৃণমূল কর্মীদের আটকে রাখা হয় বলেই উঠছে অভিযোগ।