অনন্যা সরকার, কলকাতা: জি গ্রুপের (Zee Group) প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র তাঁর বিপুল অঙ্কের বকেয়া ঋণের ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি পেলেন (Loan Settlement)। তাঁর ব্যক্তিগত দেউলিয়া কার্যক্রমে প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার ঋণের দাবি সেটেলমেন্টের জন্য ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT) মাত্র ৬.৫ কোটি টাকার একটি রি-পেমেন্ট প্ল্যান অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনা অনুমোদনের ফলে, ঋণদাতাদের বকেয়া অর্থের প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ ছাড় দিতে হচ্ছে।
ঋণদাতাদের আপত্তি খারিজ করে দিল এনসিএলটি
এনসিএলটি-র বিচার বিভাগীয় সদস্য নীলেশ শর্মা, ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপসি কোড (IBC)-এর ধারা ১১৪-এর অধীনে এই সেটেলমেন্ট প্ল্যানটি অনুমোদন করেছেন। ঋণদাতারা এই প্রস্তাবিত আদায়ের পরিমাণ অত্যন্ত কম বলে প্ল্যানটি প্রত্যাখ্যান করার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু নীলেশ শর্মা ঋণদাতাদের এই আপত্তি খারিজ করে দেন। যদিও, প্রথমে এনসিএলটি-র দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিয়েছিল। তবে পরে, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এই মতপার্থক্য নিরসনের জন্য নীলেশ শর্মাকে তৃতীয় সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করেন।
এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের (LIC Housing Finance) নেতৃত্বে ঋণদাতাদের একটি দল এই সেটেলমেন্ট প্ল্যানকে অবাস্তব ও অনৈতিক আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করে। এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের তরফে জানানো হয় যে, প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের বদলে, সেটেলমেন্ট প্ল্যানে ঋণদাতাদের মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা এবং প্রসেসিং বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারি কাগজে আছে অস্তিত্ব, কিন্তু খুঁজে পাবেন না দিঘার এই ১৪টি গ্রাম! কারণ কী?
প্রসঙ্গত, এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স ১,৩২২.৩৯ কোটি টাকা পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছিল, সেখানে সেটেলমেন্ট প্ল্যানে ঋণগ্রহীতাকে মাত্র ৩৮,০৯,২৯৪ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এটি তাদের দাবির মাত্র ০.০২৮ শতাংশ। যেসমস্ত ঋণদাতারা আপত্তি তুলেছিলেন তারা এও জানান যে, রি-পেমেন্ট প্ল্যানে প্রস্তাবিত ৬.৫ কোটি টাকার পরিমাণটি ছিল নির্দেশক, চূড়ান্ত নয়। তাই পরিকল্পনাটি অস্থায়ী ও অনির্ধারণযোগ্য। তাই এটিকে অনুমোদন করা যায় না। তবে এনসিএলটি জানায় যে, যারা আপত্তি তুলেছিলেন তাদের সম্মিলিতভাবে ২০ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছিল, যেখানে প্ল্যানটি ৮০.৮১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, একবার অনুমোদিত হলে এই প্ল্যানটি আইবিসি-র ১১৫ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল ঋণদাতার ওপর বাধ্যতামূলক হবে, তা তারা পরিকল্পনার পক্ষে বা বিপক্ষে – যেদিকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন। তারা যদি ভিন্নমত পোষণকারী ঋণদাতাদের এই যোজনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এবং সম্পূর্ণ ঋণ আদায়ের অনুমতি দেন, তাহলে তা আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করবে এবং ঋণদাতাদের মধ্যে অসম আচরণ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় “আন্ডার প্রসেস” থাকলে কবে ভেরিফাই হবে? টাকা ঢুকবে কিনা জানুন
অন্যদিকে, প্রাইভেট ব্যাংক এইচডিএফসি (HDFC Bank) ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (NCLAT)-এ এনসিএলটি-র আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলেও ভাবনা চিন্তা করছে। ব্যাংকের একজন মুখপাত্র সূত্রে জানা গেছে যে, ব্যাংকের দাবিকৃত মোট ৬৮০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৩.২ শতাংশ এনসিএলটি কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে। ঋণটি আগে এইচডিএফসি লিমিটেড মঞ্জুর করেছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের সাথে একত্রিত হওয়ার ফলে এইচডিএফসি ব্যাংক এই ঋণ উত্তরাধিকারসূত্রে পায়। এনসিএলটি-র আদেশের ফলে ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাই এনসিএলএটির দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে এইচডিএফসি কর্তৃপক্ষ।










