অনন্যা সরকার, কলকাতাঃ কথায় বলে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ পারে না এমন কাজ নেই। এই কথাটাই সঠিক প্রমাণ করে দেখিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উল্লাসনগরের প্রাঞ্জল পাটিল (Success Story of IAS Pranjal Patil)। তিনি আজ দেশের প্রথম দৃষ্টিহীন মহিলা আইএএস (IAS) অফিসার। দৃষ্টিশক্তিহীনতা কোনদিনই তার লক্ষ্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সাহস এবং কঠোর পরিশ্রমের জোরে সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ইউপিএসসি (UPSC)-এর মতো কঠিন পরীক্ষায় পাস করে দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন প্রাঞ্জল। আসুন তার এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও লক্ষ্যে অবিচল প্রাঞ্জল
মহারাষ্ট্রের উল্লাসনগরের বাসিন্দা প্রাঞ্জল পাটিল খুব অল্প বয়সেই জীবনে একটা বড় ধাক্কার মুখোমুখি হন। জন্ম থেকেই চোখে খুব ভালো দেখতে পেতেন না, এরপর ছয় বছর বয়সে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু এই চরম প্রতিকূলতা কোনও দিনই তাঁর মনোবলকে দুর্বল করতে পারেনি। প্রাঞ্জল মুম্বাইয়ের কমলা মেহতা দাদার স্কুল ফর দ্য ব্লাইন্ড থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর তিনি মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিল। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) ভর্তি হন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর, এম.ফিল. এবং পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: ডালিম ছেড়ে ধরলেন এই ফসলের চাষ, এখন বছরে ৮০ লক্ষ আয় চাষির
পড়াশোনা শেষ করে সিভিল সার্ভিসের যোগদান করার স্বপ্ন দেখেন প্রাঞ্জল। যেখানে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই ইউপিএসসি-র মতো কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ের সাহায্য নিয়ে থাকে, সেখানে প্রাঞ্জল কোনও কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তিই হননি। তিনি বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে বইয়ের লেখাগুলি শুনে শুনে অধ্যয়ন করতেন। এই প্রযুক্তির কল্যাণে ইউপিএসসি-র জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হন এবং নিজের লক্ষ্যের দিকে দৃপ্ত পদে এগিয়ে যান।
আরও পড়ুন: লাঠিচার্জে গুরুতর জখম, ৯ দিন অনশনের পর হাসপাতালে ভর্তি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো
২০১৬ সালে প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন প্রাঞ্জল পাতিল। এবছর তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ছিল ৭৪৪। তবে, এই র্যাঙ্ক নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি। তাই পরের বছর আবার পরীক্ষা দেন এবং ১২৪তম র্যাঙ্ক অর্জন করে একজন আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। ২০১৮ সালে প্রাঞ্জল কেরালার এর্নাকুলামে সহকারী কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন। তার এই সাফল্য প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করার আশা রাখেন তাদের সকলকে অনুপ্রেরণা জোগায়।










