বাবল র‍্যাপ ফাটালেই কি মন ভালো হয়ে যায়? নেপথ্যে জেনে নিন আসল কারণ

Published:

Bubble Wrap

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন পার্সেল হাতে আসার পরে অনেকেই বাবল র‍্যাপ (Bubble Wrap) ফাটাতে বসে যান৷ সে নতুন বই হোক কিংবা জামাকাপড়, জিনিস ভুলে প্যাকিং খোলার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বাবল ফাটানো (Bubble Wrap Popping)। তবে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল, জিনিসপত্রের সুরক্ষার জন্য কিন্তু আদৌ এই বস্তুটির জন্ম হয়নি। এই বস্তুটি আদতে মানসিক শান্তি (Bubble Wrap Relaxation) নিয়ে আসে বলে এমনই যুক্তি দিচ্ছে মনোবিজ্ঞানীরা। চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

বাবল র‍্যাপের আবিষ্কার

১৯৫৭ সালে আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার আলফ্রেড ফিল্ডিং এবং মার্ক শ্যাভান একটি নতুন ধরনের টেক্সচার যুক্ত, থ্রি ডি ওয়ালপেপার তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। এর জন্য তাঁরা দুটি প্লাস্টিকের শাওয়ার পর্দা একসঙ্গে সিল করে মাঝখানে বাতাসের ছোট ছোট পকেট আটকে দেন। তাঁদের তৈরি উপাদানটি প্রথমদিকে ‘এয়ার ক্যাপ’ নামে পরিচিত ছিল। এরপর উদ্ভাবকরা ১৯৬০ সালে এই ডিজাইনের পেটেন্ট নেন। এবং যেকোনো জিনিস ডেলিভারির সময় সুরক্ষিত রাখতে বাবল র‍্যাপগুলো ব্যবহার করত।

জিনিসপত্রের সুরক্ষায় ব্যবহার হয় এই র‍্যাপ

এই বাবল র‍্যাপ একদিকে ভঙ্গুর জিনিসপত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করত। অর্থাৎ কোনও জিনিস বা প্যাকেট পড়ে গেলে বা ধাক্কা খেলে, বুদবুদগুলো সেই আঘাতগুলি কিছুটা নিজেদের দিকে শোষণ করে নিতে পারে, যার ফলে সরাসরি ভিতরের জিনিসটি আঘাতপ্রাপ্ত হয় না। এই কারণেই ইলেকট্রনিক্স, কাচের সামগ্রী এবং অন্যান্য ভঙ্গুর জিনিসপত্রের জন্য বাবল র‍্যাপ বিশেষভাবে কার্যকর হয়ে উঠেছে। তবে এবার এই র‍্যাপই স্ট্রেস কমাতে এবং মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকরী।

আরও পড়ুন: জানেন কেন বোতলের ছিপিতে খাঁজ থাকে? রইল আসল কারণ

কী বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবল ফাটানোর সময় যে ছোট্ট ‘পপ’ শব্দটা শোনা যায় এবং আঙুলে যে অনুভূতি তৈরি হয়, তা আমাদের ব্রেনে এক ধরনের সংবেদনশীল তৃপ্তির সৃষ্টি করে। অর্থাৎ এই শব্দ মস্তিষ্ককে কিছুক্ষণের জন্য অন্য চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং মানসিক চাপও অনেকটা কমিয়ে মন শান্ত করে দেয়। শুধু তাই নয়, বারংবার এই ছোট ছোট বাবল ফাটানোর মধ্যে অনেক স্বস্তি মেলে। একে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক সংবেদনশীল আচরণ। এমনকি সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে বাবল র‍্যাপ ফাটানো অনেক মানুষের উদ্বেগ কমিয়েছে।