প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে পালন করা হবে বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja), ওই দিনই গ্রামবাংলায় পালিত হয় রান্নাপুজো (Ranna Puja)। বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হল এই অরন্ধন (Ranna Puja)। অরন্ধনের সময় আগুন জ্বালানোর কোনও নিয়ম নেই। তাই আগের দিন রান্না করে পরদিন খাওয়া হয় এই খাবার। এবং পুজোর দিন উনুনের মধ্যে শালুক পাতা বিছিয়ে দিয়ে পুজো করা হয়। কিন্তু জানেন কি বিশ্বকর্মা পুজো ও রান্নাপুজোর চিরাচরিত প্রথায় কেন শালুক ফুল (Shaluk Flower Significance) ব্যবহার করা হয়? চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
কেন ব্যবহার করা হয় শালুক ফুল?
পুরনো দিনের রান্নাপুজোর রীতি এখনও মানা হয় দক্ষিণবঙ্গের বহু পরিবারে। আগের দিন গৃহস্থের মহিলারা অন্ধকার রাতেই শুরু করেন কুটনো কাটা, বাটনা বাটা এবং একের পর এক রান্না করা। অর্থাৎ উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয় বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন থেকেই। শর্তও থাকে সূর্যের আলো ওঠার আগেই শেষ করতে হবে সমস্ত রান্না। পরের দিন রান্না করা হয় না আর, সেই রান্নাই খেতে হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, শালুক ফুলের পবিত্রতা বিশ্বকর্মা দেবতাকে সন্তুষ্ট করে এবং কাজের উন্নতি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। তাই, বিশ্বকর্মা পুজো ও রান্না পুজোর জন্য শালুক ফুলের ব্যবহার দেখা যায়।
ঘুড়িই বা কেন ওড়ানো হয়?
প্রসঙ্গত, বাংলার গ্রামীণ সমাজে আজও শালুক ফুলের মালা পুজো-অর্চনায় ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু শালুক ফুল নয়, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথাও রয়েছে। পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গা কত যে ঘুড়ি আকাশে ওড়ে তা কল্পনার বাইরে। পুরাণ অনুসারে বিশ্বকর্মা হলেন দেবলোকের কারিগর। শুধু তাই নয়, স্থাপত্য এবং যন্ত্রবিদ্যা অথবা স্থাপত্য বিদ্যার জনক হলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। তিনি দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথও তৈরি করেছিলেন। তা স্মরণ করতেই তাই পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন শুরু হয়। এখন ব্যস্ততার চাপে সেভাবে কাউকে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায় না।
আরও পড়ুন: জানেন কেন বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই রান্নাপুজো পালন করা হয়? রইল কারণ
সবমিলিয়ে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা যেন এই বঙ্গভূমিতে নিয়ে আসে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্সব দুর্গাপুজোর আগমন বার্তা। এদিন শুধু কলকারখানা, ওয়ার্কশপে পুজো হয় তাই নয়, বরং বাড়িতেও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও গাড়ির পুজো করার চল রয়েছে। কম্পিউটার, স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম গুলিও এদিন বিশ্বকর্মা পুজোর দিন পরিষ্কার করে সেগুলির গায়ে সিঁদুরের দাগ লাগিয়ে থাকে।










