সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই দুর্গাপুজো। হাতেগোনা বাকি আর এক মাসের বেশি কয়েকটা দিন। ইতিমধ্যেই শহর থেকে শুরু করে গ্রামে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিজ্ঞাপনে দশভূজা মা দূর্গার ছবি (Devi Durga) নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। সোমবার তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয় ওই বিজ্ঞাপনটি, যেখানে দেবী দুর্গার ১০টির জায়গায় রয়েছে ১১টি হাত। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও রয়েছে নিচে। এই ইস্যুতেই এবার সিপিআইএম-র পাশাপাশি তৃণমূল কটাক্ষ শুরু করেছে রাজ্য সরকারকে।
মা দুর্গার ১১টি হাত!
আজ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফ থেকে পুজোর ওই বিজ্ঞাপনের ব্যানারটি প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে আজ দুর্গাপুজো নিয়ে মিলন মেলায় কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা। তবে প্রকাশিত ব্যানারটিতে দেখা যাচ্ছে দুর্গার ১১টি হাত। এমনকি অতিরিক্ত হাত ও অস্ত্রের ছবির সঙ্গে পুরাণের কোনও মিল নেই। এবার তা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ।
ফেসবুক পোস্টে শতরূপ লেখেন, “একটা চমৎকার সরকারি বিজ্ঞাপন। এখানে মা দুর্গার এগারোটা হাত। দেবতাদের পক্ষ থেকে দুর্গাকে ১০ হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল অসুর বধের জন্য। আর বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ঠাকুরকে একটা এক্সট্রা হাত দেওয়া হয়েছে, পুজোর সময় বাঙালির উপর কেউ নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়া জারি করতে এলে তাঁকে কানের গোড়ায় থাবড়া মেরে প্যান্ডেল এবং বাংলা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য।” পাশাপাশি কুণাল ঘোষ লেখেন, “থিম হবে না, বিকৃত হবে না… গাদাখানেক হুমকি ও আচরণবিধি তো দেখলাম। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে মায়ের ১১টি হাত কী করে হল? দশভূজা ২০২৬-এ একাদশভূজা হয়ে গেলেন কোন শাস্ত্র অনুসারে?”
আরও পড়ুন: এইসব মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনা সহ মাসে পাবেন ৪৫০০ টাকা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
যদিও এই বিষয় নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “মা দুর্গা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে। আমি এখনও যদিও বিজ্ঞাপনটা দেখিনি। তবে কোন এজেন্সি কী ভুল করেছে সেটা রাজনীতির বিষয় নয়। অবশ্যই সংশোধন করে নেওয়া হবে।”










